ঢাকা: গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট সেবার মানোন্নয়নে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন ইতোমধ্যে গ্রাহক স্বার্থ সুরক্ষা এবং সেবার মান উন্নয়নে সমন্বিত কোয়ালিটি অব সার্ভিস নির্দেশনা জারি করেছে।
তিনি বলেন, এই নির্দেশনায় মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ডাটা গতিসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষমতা সূচকের (কেপিআই) মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। মোবাইল ইন্টারনেটের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে কমিশন আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নিয়মিত ড্রাইভ টেস্ট পরিচালনা করছে।
তিনি আরো বলেন, একই সঙ্গে নতুন স্পেকট্রাম বরাদ্দ, টাওয়ার শেয়ারিং এবং ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধ সিগন্যাল জ্যামার বিরোধী অভিযানও নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ টেলি কমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আইপি যন্ত্রপাতি—যেমন সুইচ ও রাউটার স্থাপনে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ডাটা সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, হাওর, বাওড় ও দুর্গম এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত জনগণের জন্য টেলিযোগাযোগ সুবিধা (ব্রডব্যান্ড ওয়াই-ফাই) সম্প্রসারণ শীর্ষক বিটিসিএলের প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে দুর্গম এলাকায় ওয়াই-ফাই হটস্পট স্থাপনের কাজ চলছে। গ্রামীণ সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। গ্রাম পর্যায়ে টেলিটক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ৫জি সেবার জন্য নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩,০০০টি সাইট নির্মাণ করা হচ্ছে।
এছাড়া উপকূলীয়, পার্বত্য ও দুর্গম এলাকাকে লক্ষ্য করে আরেকটি প্রকল্পের আওতায় ৪২০টি সাইট স্থাপন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ৪২০টি সাইটে উচ্চগতির ৪জি সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
মন্ত্রী বলেন, ভয়েস ওভার ওয়াই-ফাই এবং ভয়েস ওভার এলটিই সেবা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমিত সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য চারটি সাইটে পরীক্ষামূলকভাবে ৫জি সেবা চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এর ফলে টেলিটকের ব্যবহারকারী পর্যায়ের ডাটা গতি ৫ এমবিপিএস থেকে ১৬ এমবিপিএস-এ উন্নীত হয়েছে।
প্রকল্পগুলো শেষ হলে টেলিটকের ৪জি ভৌগোলিক কভারেজ ৫০ শতাংশে এবং জনসংখ্যা কভারেজ ৬০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া বিদেশি সহায়তায় আরও দুটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ চলছে, যার আওতায় ২,০০০টি নতুন ৪জি সাইট এবং ১,৬০০টি ৫জি সক্ষম সাইট স্থাপন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ দেশের সার্বিক ইন্টারনেট সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে।