ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকে স্বৈরাচার এবং গুপ্ত আবার এক হয়েছে। তারা মিলেমিশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে।
একই সঙ্গে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে— এমন ব্যক্তিদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানী এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের সহায়তা কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা কথা রেখেছি। নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম কৃষক কার্ড দেব, ফ্যামিলি কার্ড দেব। ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানী দেব। আমরা যদি এসব কাজ সফলভাবে করতে পারি, তাহলে জনগণ উপকৃত হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খননের কাজ শুরু করেছিলেন, যাতে মানুষ উপকৃত হয়। বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি।’ বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো নতুন করে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
দেশে অরাজকতা তৈরি হলে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘খেয়াল করে দেখবেন, আমরা জনকল্যাণমুখী কাজগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে চাই।’
দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি এবং যারা ‘এক দফা’ দাবি করছে, তাদের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘তাদের কি খাল কাটা কর্মসূচি আছে? তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আছে? কৃষক কার্ড কর্মসূচি আছে? মানুষের জন্য তাদের রাজনীতি কই?’
তিনি বলেন, ‘একটি দল নির্বাচনের আগে বেহেশতের টিকিট বিক্রির কথা বলত। যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা তারা কী করে দেবে? তাদের মুনাফেকি প্রকাশ হয়ে গেছে।’
স্বৈরাচার ও ‘গুপ্ত বাহিনী’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর গুপ্ত বাহিনী বলেছিল, তারা যদি ফিরে আসে অসুবিধা নেই। বলবেই তো, তারা তো স্বৈরাচারের সঙ্গেই রাজনীতি করত।’
বন্যা নিয়ন্ত্রণে ১,৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প
এর আগে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীর মানুষের দীর্ঘদিনের বন্যা-ভোগান্তি কমাতে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্পটির আওতায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহুরী নদী খনন কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন তিনি।
ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীসহ আশপাশের এলাকায় বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির পাশাপাশি নদী-খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় এসব এলাকায় পানি দ্রুত নিষ্কাশন ব্যাহত হয়। এতে কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্থানীয় জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
কার্ড ও সম্মানী বিতরণ
এদিনের কর্মসূচিতে ৭ হাজার ৬৪৩ জনকে কৃষক কার্ড, ৫১০ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ২৩৮ জন ইমাম, পুরোহিত ও সেবায়েতকে সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়। পরে গুরুতর অসহায় ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদের মধ্যেও সহায়তার চেক বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, কৃষিমন্ত্রী আমীনুর রশিদ, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন এবং ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু বক্তব্য দেন।