সিলেট: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার সিলেটে আসছেন তারেক রহমান। আগামী ২ মে সরকারি এই সফরে এসে উদ্বোধন করবেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও শহিদ জিয়ার স্মৃতিবিজরিত বাসিয়া নদী পুনঃখননসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সিলেটবাসীর প্রত্যাশা, এই সফর শুধু একটি রাজনৈতিক সফর নয়, বরং দীর্ঘ সময়ে উন্নয়ন বঞ্চিত সিলেটের যে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি তার একটি নতুন সুযোগ হিসেবে পাচ্ছেন সিলেটের মানুষ।
প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা রোববার (১৯ এপ্রিল) সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসক জানান, ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট সফর করবেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি শহিদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত বাসিয়া নদীর পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন, যা পূর্বে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। এ ছাড়া, তিনি সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এবং সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করবেন।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সিলেটবাসীর প্রত্যাশা, এসব নতুন প্রকল্পের ঘোষণা দেশের উন্নয়ন যেমন বৃদ্ধি পাবে। সেইসঙ্গে সিলেটের মানুষের বহু সময়ে—না পাওয়ার প্রত্যাশাও পূরণ হবে। তবে সিলেটবাসী মনে করে, এটি যেন শুধু ঘোষণার মধ্যে থেমে না থাকে, দ্রুত বাস্তবায়ন ও দৃশ্যমান কাজ দেখতে চায় তারা।

প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
এদিন প্রস্তুতি সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একইসঙ্গে বিভিন্ন সরকারি দফতরের ভবন সুসজ্জিতকরণ, রাস্তাঘাট মেরামত, নগর ভবনের পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি এবং সড়কের পাশের গাছপালার সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি জেলা স্টেডিয়ামে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে এবং প্রতিটি খেলার জন্য পৃথক টিম গঠন করা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান, বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মকর্তা, বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
প্রসঙ্গত, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এর নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গমাতা ফজিলাতুনেছা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যলয়’। গত অর্ন্তবর্তী সরকারের আমলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে আবার ‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ করা হয়। বর্তমানে সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় অস্থায়ী কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির দাফতরিক কার্যক্রম চলছে। তবে দক্ষিণ সুরমায় স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা করা হয়নি।