সিলেট: সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এত মানুষের রক্তের বিনিময়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, দেশ এখন সেই প্রত্যাশার বিপরীতে হাঁটছে। তবে এখন শুধু এটুকু বলতে পারি- দেশ ভালো নেই।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিলেটে খুন হওয়া শিশু ফাহিমা আক্তারের বাড়িতে তার পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একথা বলেন তিনি।
এ সময় সাংবাদিকরা সরকারের ১০০ দিন নিয়ে তার মূল্যায়ন জানতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৫ তারিখ থেকে বাজেট অধীবেশন শুরু হবে। আমার মূল্যায়ন সংসদের আগামী অধিবেশনেই বলবো।’
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত মাসে প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। এই মাসে আবার ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। পার্লামেন্টে কোনো আলোচনা না করেই এভাবে দাম বাড়ানো জনগণের সাথে প্রতারণা। জ্বালানি নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে, সেখানেও আলাপ করা হয়নি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে এখন সবকিছুর দাম বাড়বে। এতে ভুক্তভোগী হবে জনগণ। এটি জনস্বার্থ বিরোধী।’
সারাদেশে হামে শিশু মৃত্যু প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হামে শিশু মৃত্যুর দায় সবার। কেবল অন্তর্বর্তী সরকারকে দোষ দিয়ে লাভ নাই। এই সরকার তো হঠাৎ করে ঘুম থেকে উঠে নাই। আরও আগে থেকেই তো হামের প্রাদুর্ভাব। তারা কেন আগে থেকেই ব্যবস্থা নিলো না। কেন আগে থেকে টিকার ব্যবস্থা করলো না? এ ব্যাপারে আমি সংসদে কথা বলবো।’
শিশু ফাহিমা হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা লম্পট ছেলের হাতে ফাহিমার জীবন ও ইজ্জত ছিন্নভিন্ন হয়েছে। একটা গোলাপ ফুলের মতো বাচ্চাকে তার পিতা মাতার চোখের সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই লম্পটের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে তার দুনিয়ায় বেঁচে থাকার অধিকার নেই। এরকম লম্পটদের শাস্তি না হলে লম্পটদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাবে। আমরা জাতি হিসেবে লজ্জিত।’
ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার কাজে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘২৮ দিন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এই ঘটনার চার্জশিট প্রদান করা হলো না। এখানকার পুলিশ যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে না পারে তাহলে তাদের এখানে থাকার দরকার নেই। ঢাকার রামিসা হত্যার বিচার একমাসের মধ্যে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমি চাই বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এখানকার সংসদ সদস্যও এরকম ঘোষণা দেবেন। দ্রুত ফাহিমা হত্যার বিচার কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবেন।’