গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
শনিবার (২ মে) নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, নীলফামারী, পাবনা, যশোর, নাটোর, চুয়াডাঙ্গা, কক্সবাজার ও রাজবাড়ীতে পালিত এসব কর্মসূচির সংবাদ তুলে এনেছেন সারাবাংলার প্রতিনিধিরা।
নোয়াখালী
নোয়াখালীতে জেলা মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে পৌরবাজারে সমাবেশে শেষ হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসহাক খন্দকার এবং পরিচালনা করেন মাওলানা বোরহান উদ্দিন।
এ সময় বক্তারা বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাম্তবায়ন না-করে শুরুতেই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের প্রদত্ত রায়কে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে তারা। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে ১৮০ দিনের মধ্যে সকল সংস্কার প্রস্তাব, বিশেষ করে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার কথা। সরকারি দল সেই প্রতিশ্রুতি দিলেও জনগণের মতকে উপেক্ষা করে তারা সংবিধান সংস্কারের শপথ নেয়নি।
কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় বিকেলে চৌড়হাস মোড় থেকে মিছিল বের হয়ে পৌরসভা চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়।
সেখানে বক্তারা বলেন, জনগণের সঙ্গে আর তামাশা করবেন না। তা না-হলে জনগণ মাঠে নামতে বাধ্য হবে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার হেলিকপ্টারে পালিয়েছে। আপনারা কিন্তু সেই সময়ও পাবেন না। তাই বলছি, জনগণের দাবি মেনে নিন। অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন।
এ ছাড়া, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না-হলে লাগাতার সরকারবিরোধী কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
নীলফামারী
নীলফামারীতে বড় মসজিদ থেকে মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ডিসি অফিস মোড়ে সমাবেশে শেষ হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুস সাত্তার।
এনসিপির জেলা সদস্য সচিব ডা. কামরুল ইসলাম দর্পণ বলেন, ‘৩০ শতাংশ ভোটের পক্ষে সরকার অবস্থান নিলে মনে করতে হবে, এই অংশটাই সরকারের। ৭০ শতাংশ জনমত গণভোটের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে, আর ৩০ শতাংশ এর বিপক্ষে। আর যদি ৩০ শতাংশ সঠিক হয়, তাহলে সরকার এই পরিমাণ ভোট পেয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। আর যদি সরকার জুলাই সনদ চায়, তাহলে জনগণের মতামতের গুরুত্ব দেবে।’
পাবনা
পাবনায় চাপা মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহীদ চত্বরে গিয়ে সমাবেশে শেষ হয়।
মিছিল শেষে শহীদ চত্বরে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমীর আবু তালেব মণ্ডল (এমপি), নায়েবে আমীর মাওলানা জহুরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ ইকবাল হুসাইন, মাওলানা আব্দুল গাফফার খান, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আক্তার হোসেন লেবু ও খেলাফত মজলিসের জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আলতাফ হোসেনসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
যশোর
যশোরে মিছিল শেষে শহরের জজ কোর্ট মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল।
তিনি বলেন, ‘দেশে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ তাদের মতামত দিয়েছেন, যা একটি সুস্পষ্ট গণরায়। কিন্তু সরকার সেই রায়কে উপেক্ষা করছে।’
তিনি দাবি করেন, ‘গণভোটে উত্থাপিত বিষয়গুলো ছিল জনগণের মৌলিক অধিকার, সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব দাবির বিপরীতে সরকারের অবস্থান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।’
এ সময় দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদ কার্যকর করার আহ্বানও জানান তিনি।
নাটোর
নাটোরে শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে আবারও এসে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ইউনুস আলী, জামায়াতে ইসলামের জেলা আমীর ড. মীর নুরুল ইসলাম, এনসিপি নেতা আব্দুল মান্নাফসহ অনেকেই।
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করার পাশাপাশি জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম কমানোর দিাবিও তোলেন।
চুয়াডাঙ্গা
বিকেল সাড়ে ৫টায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠ থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
এর আগে, টাউন ফুটবল মাঠে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমিন এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাসুদ পারভেজ রাসেলসহ অনেকেই।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে সরকারকে দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
কক্সবাজার
কক্সবাজারেও ১১ দলীয় জোট গণমিছিল করেছে।
মিছিল শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসাথে অনুষ্ঠিত হলেও বিএনপি সরকার নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে ক্ষমতায় গিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অবজ্ঞা করে তারা ফ্যাসিবাদী মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটের রায় পাশ কাটিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। যতদিন পর্যন্ত সরকার জুলাই সনদের ভিত্তিতে গণভোট বাস্তবায়ন না করবে, ততদিন আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে জনগণ বিএনপিকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিতে বাধ্য হবে।’
এ ছাড়া কাশ্মীর ইশুর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘গণভোটের ফল উপেক্ষা করলে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’
রাজবাড়ী
রাজবাড়ীতে আজাদী ময়দানে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে শেষ হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ‘হ্যা’ ভোট দিয়ে রায় দিলেও সরকার তা উপেক্ষা করছে। ৫১ শতাংশ ভোট নিয়ে সংসদে গিয়ে ৭০ শতাংশ মানুষের মতামত অগ্রাহ্য করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। বর্তমান সরকার ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদের দিকে এগোচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।
তারা আরও বলেন, সংসদের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে রাজপথেই সমাধান খোঁজা হবে। প্রয়োজনে আবারও গণঅভ্যুত্থানের পথে হাঁটবে দেশের মানুষ।