Saturday 25 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নিপুণ রায় চৌধুরীর হলফনামা: ৬০২ ভরি সোনা ও কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৪৬

নিপুণ রায় চৌধুরী।

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীর দাখিল করা হলফনামায় তার বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। উচ্চশিক্ষিত ও পেশায় আইনজীবী এই নেত্রীর হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনি ও তার পরিবার বড় অংকের সম্পদ ও গয়নার মালিক।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নিপুণ রায়ের ব্যক্তিগত মালিকানায় রয়েছে ৫০২ ভরি সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর গয়না। এর পাশাপাশি তার স্বামী অমিতাভ রায়ের নামে আরও ১০০ ভরি সোনার গহনা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই দম্পতির সংগ্রহে রয়েছে ৬০২ ভরি সোনা। হলফনামায় এসব অলঙ্কার ‘উপহার’ হিসেবে প্রাপ্ত বলে উল্লেখ করা হলেও এগুলোর অর্জনকালীন বা বর্তমান বাজারমূল্য উল্লেখ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

পেশাগতভাবে আইনজীবী নিপুণ রায়ের প্রধান আয় আসে আইন পেশা থেকে, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া শেয়ার বাজার ও ব্যাংক আমানতের মুনাফা থেকে তার বার্ষিক আয় হয় আরও প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। বর্তমানে এই দম্পতির হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৭৬ লাখ টাকা, যার মধ্যে ১৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা নিপুণের নিজের এবং বাকি অংশ তার স্বামীর।

নিপুণ রায়ের অস্থাবর সম্পদের তালিকায় ১ কোটি ১৩ লাখ ২১ হাজার টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) এবং ১ কোটি ১১ লাখ টাকা মূল্যের দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে। সব মিলিয়ে তার নিজের নামে থাকা অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অন্যদিকে তার স্বামীর নামে সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তিনি ৮৫ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা দেখিয়েছেন।

সম্পদের পাশাপাশি নিপুণ রায়ের নামে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকার ব্যাংকঋণ ও অন্যান্য আর্থিক দায় রয়েছে। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য নিপুণ রায় সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ছেলের বউ। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে থাকা ২৩টি মামলা থেকে তিনি ২০২৫ সালে অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন, যা তার সংসদ সদস্য হওয়ার পথকে কণ্টকমুক্ত করেছে।

‎উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ্য সদস্য হতে এখন আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে। ৫০টি আসনের মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১২ জন ও স্বতন্ত্র জোটের ১ একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পার হলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।

সারাবাংলা/এনএল/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর