ঢাকা: এ বছর দেশে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
রোববার (৩ মে) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, দেশের খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং দেশীয় উৎপাদনের পর্যাপ্ততা বিবেচনায় এবার বিদেশ থেকে কোনো পশু আমদানি করা হবে না। অবৈধ পথে সীমান্ত দিয়ে গবাদিপশু প্রবেশ রোধে বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। পশুর অবাধ চলাচল ও পরিবহন নিশ্চিত করতে এবারও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রুটে ‘ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন’ চলবে, যা খামারি ও ব্যবসায়ীদের পরিবহন খরচ কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশে কোরবানির পশুর হাটের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় মোট ২৭টি হাট বসবে এবং সারাদেশে মোট হাটের সংখ্যা হবে ৩ হাজার ৬৭৮টি। প্রতিটি বড় হাটে একাধিক ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা পান। রাজধানীতে ২০টি নিয়মিত ও ২টি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল দল সার্বক্ষণিক তদারকিতে থাকবে।
মন্ত্রী জানান, সরকার এবার পশুর চামড়া ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য সারাদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবারও অনলাইনে পশু বিক্রির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পশু বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের খাজনা বা হাসিল দিতে হবে না, যা ক্রেতাদের জন্য একটি বড় স্বস্তির সংবাদ।
বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। রাস্তা ও হাটে চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমন করা হবে যাতে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর পশুর দামের বাড়তি চাপ না পড়ে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার বাজার মনিটরিং এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।