ঢাকা: দেশে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে একক কিউআর কোড ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ চালু ও বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করার জোর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কয়েক বছর আগে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ এখন জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) দেশের সব ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে দ্রুত ‘বাংলা কিউআর’ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, এতদিন কিউআর কোড ব্যবস্থা মূলত ব্যাংকিং খাতের উদ্যোগে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা রাষ্ট্রীয় এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে। ফলে ব্যাংকের পাশাপাশি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীকেও এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, বড় অঙ্কের লেনদেনে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহৃত হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পর্যায়ে এখনও নগদ লেনদেনই বেশি। রিকশা ভাড়া, মুদির দোকানসহ দৈনন্দিন লেনদেনে নগদের আধিপত্য কমিয়ে ক্ষুদ্র মার্চেন্টদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস খাত কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ব্যাংকগুলোর অগ্রগতি তুলনামূলক কম বলে জানান তিনি। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব ব্যাংককে বাধ্যতামূলকভাবে ‘বাংলা কিউআর’ সংযুক্ত করতে হবে।
‘এক দেশ, এক কিউআর’ নীতির আওতায় দেশে আর আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোড থাকবে না। বিকাশ, নগদ বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআরের পরিবর্তে সর্বত্র একক ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অন্তত ৭৫ শতাংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো গভর্নরের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক, এমএফএস, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটরদের (পিএসও) প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সমাধানের সুপারিশ দেবে।
আগামী ৩০ জুনের পর মার্চেন্ট পর্যায়ে ব্যবহৃত সব প্রোপ্রাইটারি কিউআর বাতিল হয়ে ‘বাংলা কিউআর’ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেই তাদের দেওয়া কিউআর পরিবর্তনের দায়িত্ব নিতে হবে।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রথমে সময়সীমা নির্ধারণ করে পরে তা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।