ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার মামলার বিচার অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়াকে রাষ্ট্রের সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তদন্ত সংস্থা এবং বিচার বিভাগের সমন্বিত ও সক্রিয় ভূমিকার কারণেই দ্রুততম সময়ে এই মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) সুপ্রিম কোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মামলার তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং রায় সম্পন্ন হওয়া বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিম্ন আদালতের রায়ের নথি পাওয়ার পর হাইকোর্টেও দ্রুত শুনানি ও আপিল নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতিও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি আশাবাদী।
এর আগে একই দিন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগী রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করা হবে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা গত ১৯ মে সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর প্রতিবেশী স্বপ্না তাকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।
মেয়ের সন্ধান না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রামিসার মা আসামিদের ঘরের সামনে তার জুতা দেখতে পান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্নাকে আটক করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে।
ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মধ্যেই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে দ্রুততম বিচারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।