ঢাকা: ঈদুল আজহার ছুটি ও উৎসবের আমেজ শেষ হতে না হতেই ঘোষিত হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। সাধারণত বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা গেলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে এখনো পর্যন্ত পণ্যের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। বরং কিছু পণ্যের দাম ঈদের আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
শুক্রবার (১২ জুন)রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, মালিবাগ ও হাতিরপুলসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজি, মাছ, মাংস, ডিম ও মুদি পণ্যের দাম প্রায় আগের অবস্থানেই রয়েছে। ব্যবসায়ী ও বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নতুন করে কর বা শুল্ক বৃদ্ধির মতো কোনো সিদ্ধান্ত না থাকায় বাজারে অস্থিরতা তৈরির সুযোগ তৈরি হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেটে ধান, চাল, গম, আলু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ সবজিই ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কাঁকরোল, বেগুন, করলা, বরবটি, ঝিঙা ও চিচিঙ্গার কেজি ৫০ থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে রয়েছে। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং পটোল ৪০ টাকা কেজিতে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর ক্রেতার চাপ কম থাকায় চাহিদা কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়নি।
বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগে তুলনামূলক বেশি ছিল। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকায়।
ডিমের বাজারেও স্বস্তি রয়েছে। ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মসলার বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। দেশি রসুনের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে। আলুর দাম রয়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি।
মানিক নগরে মুদি ব্যবসায়ী তারেক মিয়া বলেন, “বাজেটে কর কমানোর কথা শুনছি, কিন্তু সেই সুবিধা বাজারে আসতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ আমরা আগের দামে কেনা পণ্যই এখন বিক্রি করছি।”
তিনি বলেন, “তবে সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, বাজেট ঘোষণার পর কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। পাইকারি বাজারে দাম কমলে খুচরা পর্যায়েও তার প্রভাব পড়বে।”
শান্তিনগর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শরিফুল ইসলাম বলেন বলেন, “অন্যান্য বছর বাজেট ঘোষণার পরদিনই অনেক পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবার অন্তত সেই আতঙ্কটা নেই। ডিম, মুরগি, পেঁয়াজ কিংবা তেলের দাম আগের মতোই রয়েছে।”
নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, তার সুফল দ্রুত যেন সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে। একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বাজেট-পরবর্তী সময়ে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকা ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির খবর। তবে কর কমানোর প্রকৃত সুবিধা ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।