ঢাকা: সদ্য প্রস্তাবিত বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাজেটের পর সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এবার কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। কারণ, চাল, ডাল, তেল, লবণসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে বর্তমান সরকার ট্যাক্স প্রত্যাহার করেছে। উদ্দেশ্য একটাই দেশের মানুষ যাতে ভাল থাকতে পারে।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনকালে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় বিদেশি পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষিপ্রধান দেশ হলেও শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তাই দেশে উৎপাদিত পণ্যের সমজাতীয় বিদেশি পণ্যের ওপর আমরা কর বাড়িয়েছি, যাতে দেশীয় শিল্পকারখানাগুলো প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি মানুষের জন্য ক্ষতিকর মদ ও সিগারেটের ওপরও কর বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ওপর ট্যাক্স কমালাম, হার্টের রিংয়ের ট্যাক্স কমালাম; কিন্তু বিরোধী দল বলে তারা এই বাজেট মানে না। আমরা মদ ও সিগারেটের ওপর ট্যাক্স বাড়ালাম, বিদেশি পণ্যের ওপর কর বাড়ালাম; বিরোধী দল সেটিও মানে না। তাহলে তারা আসলে কী চায়? তাদের একটাই লক্ষ্য—দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি সৃষ্টি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা। তারা জনগণের বন্ধু নয়।’
দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার ‘কৃষক কার্ড’ এবং মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘একইসঙ্গে নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এখন থেকে স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যারা ভালো ফলাফল করবে তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বাজেটে।’
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোটের দাগ শুকানোর আগেই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। আমরা খাল খননের কাজ শুরু করেছি, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রমও শুরু করেছি।’
দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ যাতে স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা পায়, সেদিকে আমরা বিশেষ নজর দিয়েছি। আগে একটি হার্টের (স্টেনটিং) রিং পরাতে প্রায় সোয়া লাখ টাকা খরচ হতো। আমরা হার্টের রিং ও কিডনি ডায়ালাইসিস-সংক্রান্ত ওষুধের ওপর থেকে ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রত্যাহার করেছি। আগামী জুলাই থেকে এ খরচ অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসবে।’
জনগণের শক্তির ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল বা পরিবার নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। জনগণের সমর্থনই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। যতক্ষণ আমাদের ধড়ে প্রাণ থাকবে, আমরা এই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’
পথসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ভুমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন, কক্সবাজার সদর আসনের এমপি লুৎফর রহমান কাজলসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা এবং সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সব কর্মসূচি শেষে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার।