ঢাকা: অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে নিজেদের কমিশন কাটার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচার চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে সিআইডি হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) অতিরিক্ত ডিআইজি সানা শামীনুর রহমান।
তিনি বলেন, সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্ট সোমবার (১৫ জুন) নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. রায়হান খান (২১), মো. পাভেল রহমান ভূইয়া (২৩) ও আবু জোবায়ের সানি (৩৬)।
তিনি বলেন, সিপিসি নিয়মিত সাইবার মনিটরিং করাকালীন দেখতে পায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং (জুয়া) ওয়েবসাইটের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসবক জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা ও অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে বেটিং পরিচালিত হচ্ছে। বেটিং সাইটে ব্যবহৃত বিভিন্ন এজেন্টদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি বাদী হয়ে পল্টন (ডিএমপি) থানায় গত ১৭ মে মামলা করে।
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, অনলাইন বেটিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য প্রথমে নির্দিষ্ট অনলাইন সাইটে একটি একাউন্ট (ওয়ালেট) খুলতে হয়। অভিযুক্তরা বেটিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়), ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে উৎসাহ ও নির্দেশনা প্রদান করতো। অংশগ্রহণকারীদের জমাকৃত অর্থের বিপরীতে তাদের বেটিং অ্যাকাউন্টে ই-মানি বা ভার্চুয়াল ব্যালেন্স যুক্ত হলে পরবর্তীতে তা অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো।
গ্রেফতার অভিযুক্তরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে সেগুলো বেটিং সাইটে ব্যবহার করছিল। জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ হতে নিয়োগপ্রাপ্ত এজেন্টরা তাদের কমিশন কেটে রাখার পর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করছিল মবলে তথ্য পাওয়া যায়। মামলাটির তদন্তে অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত এজেন্ট নম্বরের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন বেটিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত এজেন্ট সিম ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। তারা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এজেন্ট সিম ও হিসাব বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট সরবরাহ করেছিল, যা অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত হতো। গ্রেফতারকৃত মো. রায়হান খান ও আবু জোবায়ের সানি (৩৬) নিজ নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম অনলাইন জুয়ার সাইটে সক্রিয় রেখে কমিশন নিতেন। মো. পাভেল রহমান ভূইয়া (২৩) বিভিন্ন এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে চক্রের নিকট সরবরাহের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছিল। আর এসব এজেন্ট সিম অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন, অর্থপাচার কার্যক্রম এবং এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।