Thursday 29 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি বেড়ে ৪৭১ হেক্টর আবাদি জমি প্লাবিত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০৯ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:২২

প্লাবিত আবাদি জমি।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ায় জেলার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলার চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার পরিবারের অর্ধলক্ষ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে ৪৭১ হেক্টর আবাদি জমি।

পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। একই সঙ্গে গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) কুষ্টিয়ার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি আগের দিনের তুলনায় আরও ৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। অনেকের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। রান্না ও খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। চলাচলের সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে পরিবার-পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

পানি বৃদ্ধির কারণে চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা ও যাতায়াতের সড়কও পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের অন্তত ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দুর্ভোগ বাড়লেও দুর্গত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন পানিবন্দি মানুষ। তারা দ্রুত খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ বলেন, দুই ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ৪৭১ হেক্টর আবাদি জমি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে আমন ধান ও পাটের বেশিরভাগই কৃষকেরা আগেই কেটে নিয়েছেন। তবে কিছু ফসল পানিতে নষ্ট হয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৬ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হবে। জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দুজন মেডিকেল অফিসারকে নিয়ে একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি টিম গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। তবে পানি ওঠায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে স্থানীয়ভাবে শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। পানি নেমে গেলে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যেই বন্যার পানিতে দুইটি ইউনিয়ন প্রায় সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে ওই দুই ইউনিয়নের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজারদের কৃষকদের আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা যথাযথভাবে কৃষকদের সতর্ক করেননি। বিষয়টি নিয়ে আমি কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। কেন কৃষকদের সময়মতো সতর্ক করা হয়নি, সে বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা আরও বলেন, এ ছাড়া দলীয়ভাবে দুই ইউনিয়নের বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই দুই ইউনিয়ন মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই দুই ইউনিয়নের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে একটি সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও নদীতে পানি বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। পানি আরও বাড়লে দুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর