Thursday 14 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদের আগেই বাংলানিউজ সাংবাদিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি


৭ জুন ২০১৮ ১৮:৪২ | আপডেট: ৭ জুন ২০১৮ ১৮:৪৮
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: ঈদের আগেই পাওনা বঞ্চিত বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম সাংবাদিকদের সকল পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

বৃহস্পতিবার (৭ জুন) বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত পাওনা বঞ্চিত বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম সাংবাদিকদের মানববন্ধনে বিএফইউজের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও ডিইউজের সভাপতি আবু জাফর সূর্য এই দাবি জানান।

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘এটা খুব মর্মান্তিক। মর্মান্তিক এই অর্থে যে, আর মাত্র ২ সপ্তাহ, দেড় সপ্তাহ পরে ঈদ। ঈদ উপলক্ষে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান আগাম বেতন-বোনাস দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গার্মেন্টস সেক্টরে কত তারিখের মধ্যে বেতন-বোনাস দেওয়া হবে- সেটিও বলে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

‘অথচ যে পেশাটাকে আমরা মহৎ পেশা মনে করি, সব চেয়ে গৌরবের পেশা মনে করি, সেই সাংবাদিকতা পেশার বন্ধুরা রাজপথে দাঁড়িয়েছেন পাওনা আদায়ের জন্য, এটি খুবই কষ্টের এবং দাঁড়িয়েছেন কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, যে প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত’— বলেন বিএফইউজের সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি বাংলাদেশে গণমাধ্যম যখন একটা শিল্পে পরিণত হচ্ছে, তখন বড় বড় বিনিয়োগ এ শিল্পকে বিকশিত করবে। বসুন্ধরা গ্রুপ যখন অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ চালু করে, তখন অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে সাংবাদিকরা সেখানে কাজে যোগ দিয়েছিলেন।’

‘গত সাত বছর ধরে এই সাংবাদিকরা তাদের মেধা দিয়ে, যোগ্যতা দিয়ে বাংলানিউজ নামটিকে ব্রান্ডিং করেছেন, এটিকে মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতার জায়গায় নিয়ে গেছেন। কিন্তু আজকে পাওনা আদায়ের জন্য তাদেরকে রাজপথে দাঁড়াতে হয়েছে। এটা সত্যিই মর্মান্তিক’— বলেন মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের গণমাধ্যম জগতে যখন যারা বিনিয়োগ করতে আসবেন, তাদের আগে জানতে হবে গণমাধ্যম জগতের বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে আসেন। যে স্বপ্ন নিয়ে তারা আসেন, সেই স্বপ্ন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নেই। আপনার অনেক পুঁজি থাকতে পারে, অনেক ক্ষমতা থাকতে পারে, কিন্তু সাংবাদিক সমাজের কাউকে হেয় করার এখতিয়ার নেই।

‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে বসবেন। প্রয়োজন হলে আমরা সেখানে থাকব। বাংলানিউজের চাকরিচ্যুত এবং যারা পাওনা পাচ্ছেন না, তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসবেন এবং পাওনা পরিশোধ করবেন।’

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘এটা করতে হবে দু’টি কারণে। সাংবাদিকদের রাস্তায় ঠেলে দেওয়ার উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করতে পারি না এবং বসুন্ধরা বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান। আমরা বিশ্বাস করতে চাই তাদের যে মর্যাদা, তাদের যে সম্মান সেটা তারা রক্ষা করবেন। কয়েকজন সাংবাদিকের কিছু টাকা পরিশোধ না করার মধ্য দিয়ে তারা নতুন একটা শিল্প কারাখানা স্থাপন করতে পারবেন না।

সাংবাদিকদের পাওনা না দিয়ে তাদেরকে রাজপথে দাঁড় করানো খুব অবমাননাকর উল্লেখ করে বুলবুল বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে বসুন্ধরা আরও বিকশিত হোক- আমরা সেটা চাই। কিন্তু সাংবাদিকদের ইজ্জত, সাংবাদিকদের মর্যাদা, সাংবাদিকদের পাওনার বিনিময়ে নয়।

পাওনা বঞ্চিত বাংলানিউজ সাংবাদিকদের সঙ্গে গোটা সাংবাদিক সমাজ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের অবস্থানের কথা জানালাম। আশা করি এই বার্তা বসুন্ধরা গ্রুপ ও বাংলানিউজের কাছে পৌঁছে যাবে। সেখানে যারা কর্মরত আছেন, পেশার স্বার্থে তারাও মালিকদের কাছে বার্তা পৌঁছাবেন।’

ঈদের আগে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বুলবুল বলেন, ‘যদি এই সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হয়, তাহলে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন যে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবে, সেই আন্দোলনের সঙ্গে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন থাকেব।’

বাংলানিউজের পাওনা বঞ্চিত সাংবাদিকদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিএফইউজে) সভাপতি আবু জাফর সূর্য বলেন, আন্দোলন করেই ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া কয়েকটি মিডিয়ার সংবাদকর্মীদের ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী সমস্ত পাওনা ও বকেয়া বেতন-ভাতাদি পরিশোধে মালিকপক্ষকে বাধ্য করা হয়েছে। বাংলানিউজের মালিক প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপকে পাওনা পরিশোধে বাধ্য করা হবে।

পাওনা বঞ্চিত সাংবাদিকদের নিয়ে প্রয়োজনে বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের সামনে অবস্থানের হুঁশিয়ারি দেন বিএফইউজের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অমিয় ঘটক পুলক।

তিনি বলেন, ‘এ গ্রুপের ছয়টি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এর আগেও আন্দোলন করে কয়েকটি থেকে সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এবারও হবে। আমরা চাই না বাংলানিউজের সাংবাদিকদের আর একটা দিন রাস্তায় দাঁড়াতে হোক। কিন্তু তা করতে হলে কঠোর হওয়া ছাড়া আমাদের উপায় থাকবে না।’

বিএফইউজের সাবেক সদস্য খায়রুজ্জামান কামাল বলেন, আমরা জানি, বসুন্ধরা গ্রুপ সাংবাদিকবান্ধব একটা শিল্পগ্রুপ। সাংবাদিকদের কল্যাণে তারা অনেক কিছু করেছে। অনেক সাংবাদিককে তারা সহযোগিতা করেছে। আমাদের মনে হচ্ছে, বাংলানিউজের সাংবাদিকদের ব্যাপারে তাদেরকে কেউ মিসগাইড করছে। আমরা প্রত্যাশা করব, আগামী ৭ দিনের মধ্যে বাংলানিউজ সাংবাদিকদের সমুদয় পাওনা বুঝিয়ে দেবে বসুন্ধরা গ্রুপ। অন্যথায় সাংবাদিকরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’

ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন বলেন, প্রয়োজনে ঈদের দিনও আমরা রাস্তায় দাঁড়াব। ২৫/৩০ জন সাংবাদিক ন্যায্য পাওনা না পেয়ে ঈদের আনন্দ বঞ্চিত হবেন, তা হতে পারে না। বাংলানিউজের সাংবাদিকদের পাওনা পরিশোধে বসুন্ধরা গ্রুপকে বাধ্য করতে প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

পাওনা বঞ্চিত সাংবাদিকদের এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলানিউজের সাবেক চিফ অব করেসপন্ডেন্ট আহমেদ রাজু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলানিউজের সাবেক সিনিয়র স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট মান্নান মারুফ।

সারাবাংলা/এজেড/এটি

** দ্রুত খবর জানতে ও পেতে সারাবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন: Sarabangla/Facebook