Thursday 14 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জুতায় নতুন ব্র্যান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে নামি ব্র্যান্ড


১০ জুন ২০১৮ ২২:৪৩
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

।। মেসবাহ শিমুল, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

ঢাকা: রাজধানীর রামপুরা বাজার থেকে মালিবাগ চৌধুরীপাড়া। দূরত্ব খুব বেশি হলে আধা কিলোমিটার। কয়েক বছর আগেও ডিআইটি রোডের এই অংশটুকুতে তেমন জাঁকজমক ছিল না। অথচ এখন এইটুকু রাস্তা হাঁটলেই চোখে পড়বে অন্তত ৩০টি জুতার শোরুম। বাটা আর এপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোই শুধু নয়, নতুন নতুন অনেকগুলো ব্র্যান্ডের জুতার দোকানই রয়েছে এই সারিতে। ক্রেতারা বলছেন, দামে কম ও মানে ভালো হওয়ায় নতুন নতুন এসব ব্র্যান্ডের দোকানেই ভিড় বাড়ছে ক্রেতাদের।

রামপুরা বাজার এলাকায় চোখে পড়ে এক্সপ্রেস ও লোটো ব্র্যান্ডের বিশাল শোরুম। আলাদা ব্র্যান্ড হলেও কোম্পানি একই। এখানে একই ছাদের নিচে মিলছে বাহারি পণ্য। বিক্রয় ব্যবস্থাপক আব্দুল মতিন জানালেন, টঙ্গীতে নিজেদের কারখানায় তৈরি হয় ব্র্যান্ডের প্রায় ৮০ ভাগ পণ্য। মানভেদে দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন

হাজীপাড়ার নতুন শোরুম ভাইব্রান্ট। ঈদকে সামনে রেখে গত ৪ জুন যাত্রা করেছে এ শোরুমটি। ইউ-এস বাংলার মালিকানাধীন ফুটওয়্যার কোম্পানিটির শোরুম ঢাকায় তিনটি, চট্টগ্রামে একটি। নতুন হলেও ক্রেতাদের আনাগোনা কম নয়, বিক্রিও হচ্ছে ভালোই। ৩৯০ টাকা থেকে শুরু করে ৬৯৯০ টাকায় রয়েছে ভাইব্রান্টের পণ্য।

সম্পূর্ণ দেশি ব্র্যান্ড স্প্যান এই এলাকায় ব্যবসা করছে বছর পাঁচেক হলো। দেশের বাইরে জাপানেও রফতানি হয় স্প্যানের জুতো। সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৯৯০ টাকাতেও রয়েছে স্প্যানের এক জোড়া জুতো। রোজার শুরু থেকেই বিক্রিও ভালো বলে জানালেন দোকানের ম্যানেজার জাকির। ঈদের আগে আগামী কয়েকদিনে বিক্রি আরো বলেও জানান তিনি।

জুতার বাজারে ব্র্যান্ড হিসেবে খুব বেশি পরিচিত নয় বোলিং। তবে গুণগত মানের কারণেই এই ব্র্যান্ডের দোকানে ক্রেতাদের বেশ ভিড় দেখা গেল। আজমল নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে এই শোরুম থেকেই জুতা কিনছি। এখানকার জুতার ডিজাইনে বৈচিত্র্য আছে। দামও মোটামুটি সহনীয়।’

বিক্রেতা পরাণ আহমেদ জানালেন, ক্রেতাদের কাছ থেকে ভ্যাট না নিলেও সরকারকে ভ্যাট দেয় তাদের কোম্পানি। ভ্যাটের অংশটি দামের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। তিনি জানান, রোজার শুরু থেকেই বিক্রি হচ্ছে ভালোই। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে বিক্রি বেশি হয়েছে। এখন প্রতিদিনই সন্ধ্যায় উপচে পড়া ক্রেতাদের সামলাতে হচ্ছে তাদের।

ইনসোল ব্র্যান্ডটিও এ এলাকায় নতুন। ঈদকে সামনে রেখে নতুন কালেকশনের সমাহার ঘটেছে এই ব্র্যান্ডের শোরুমে। বিক্রেতারা জানালেন, তাদের পণ্য যারা একবার কিনেছেন, তারা আবার আসছেন। দেশীয় ব্র্যান্ড হলেও এখানে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার জুতাও পাওয়া যায়।

ক্রিসেন্ট ও জিলস ব্র্যান্ডের শোরুমে ছোটদের জুতায় নজরকাড়া ডিজাইন চোখে পড়ছে। বড়দের জুতার ডিজাইনেও রয়েছে বৈচিত্র্য। বিক্রেতারা বলছেন, দাম হাতের নাগালে বলেই দিন দিন তাদের বিক্রি বাড়ছে।

আফসানা শামান্তা নামের এক ক্রেতা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাটার জুতা ব্যবহার করতাম। পরে এপেক্স কিছুদিন কিনেছি। কিন্তু দামের তুলনায় মান ততটা ভালো না। এখন এসব ছোট ছোট ব্র্যান্ডের জুতা পরি। দাম ও মান খারাপ মনে হয় না।

সব মিলিয়ে ডিআইটি রোডের রামপুরা অংশটুকু জুতার সংগ্রহে বেশ সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে। বড় বড় প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলোর পাশাপাশি ছোট ব্র্যান্ডগুলোও মান আর দামের সমন্বয়ে হয়ে উঠছে নির্ভরতার প্রতীক।

সারাবাংলা/এমএস/টিআর