Thursday 14 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদ আনন্দ নেই চাঁদপুরের জেলে পল্লীতে


১১ জুন ২০১৮ ০৯:১৬ | আপডেট: ১১ জুন ২০১৮ ০৯:১৮
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

।। রিয়াদ ফেরদৌস, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট।।

চাঁদপুর: ইলিশের মৌসুমেও হাসি নেই চাঁদপুরের জেলেদের মুখে। জাটকা রক্ষা কর্মসূচির একমাস পেরিয়ে গেলেও জেলেদের জালে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। ডাঙ্গায় মহাজনের দাদনের চাপ, জলে জলদস্যু আতঙ্ক। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কিভাবে ঈদ কাটাবেন, তা নিয়েই চিন্তিত জেলেরা।

লক্ষ্মীপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা হানুফা বেগম সারাবাংলাকে জানান, তার স্বামী নদীতে মাছ ধরেন। পরিবারে সদস্য সংখ্যা ছয় জন। এ বছর নদীতে মাছ একবারেই কম। স্বামীর উপার্জন না থাকায় সন্তানদের নতুন কাপড় কিনে দিতে পারছেন না। ঈদের জন্য নেই বাড়তি কোনো আয়োজন।

বিজ্ঞাপন

বহরিয়া এলাকার জেলে রফিক মাতব্বর বলেন, এনজিওর ঋণের টাকার জন্য বারবার সমিতির লোকজন তাগিদ দিচ্ছেন। এখন আর নদীতে কাজ নেই। কিন্তু কিস্তি টাকার জন্য সমিতিওয়ালারা সকাল-বিকেল ঘরে এসে বসে থাকে। এর ওপর কয়েকদিন পর আসছে ঈদ। কিন্তু খরচের জন্য হাতে তেমন টাকা নেই।

অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি সফল করতে চাঁদপুরের ৫১ হাজার জেলের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা লক্ষ্য করা গেছে। যদিও ঋণে জর্জরিত হয়ে দিশেহারা তারা। তাই ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা হিসেবে চালের পাশাপাশি নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানায় জেলেরা।

তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলছে, ঋণ পরিশোধের জন্য ভিজিএফের চালের সঙ্গে আর্থিক সহায়তা দিতে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

চাঁদপুর মাছ ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশের আমদানি একেবারেই কম। দিনে অল্পসংখ্যক ট্রলার আসে। মাছঘাটের শ্রমিকরা পার করছে অলস সময়। মাছ ঘাটের ব্যবসায়ী আবদুল বারী জমাদার জানান, আগে যেখানে চার থেকে পাঁচশ মণ মাছ আসত, এখন সেখানে একেকদিন মাছ আসছে ২০ থেকে ২৫ মণ। এর ফলে মাছ ঘাটেও বিরাজ করছে স্থবিরতা।

 

সেখানে কর্মরত শ্রমিক আবুল হোসেন জানান, ঘাটে মাছ আসছে খুবই কম। তাই আমার উপার্জনও কমে গেছে। কিন্তু বাচ্চারা গত কয়েকদিন ধরেই নতুন জামা কিনে দিতে বলছে। কিন্তু ইনকাম কম হওয়ায় এখনো তাদের নতুন পোশাক কিনে দিতে পারছি না।

চাঁদপুরের মৎস্য ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, ইলিশ একটি পরিভ্রমণশীল মাছ। নদীতে ডুবোচরের কারণে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বৃষ্টি বাড়লে মেঘনায় আবারও ইলিশ ধরা পড়ার হার বাড়বে।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি প্রায় শতভাগ সফল হয়েছে। তাই চলতি বছর নতুন করে ৪২ হাজার কোটি জাটকা ইলিশ নদীতে যুক্ত হতে পেরেছে। গত বছর যা ছিলো ২৯ হাজার কোটি।

সারাবাংলা/এমএইচ/এমআই