।। মহিউদ্দিন সুমন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট ।।
টাঙ্গাইল: যেকোনো অনুষ্ঠানেই বাঙালি নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ি। টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ির প্রতি রয়েছে আবার আলাদা টান। প্রতিবছরের মত এবার ঈদেও রয়েছে সেই চাহিদা। আর এসব শাড়িতে এসেছে বৈচিত্র্য আর নতুনত্ব।
বাহারি ডিজাইনের শাড়ি বুনন ও তা সারাদেশে সরবরাহ করতে ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁত পল্লীগুলোতে। তবে বরাবরের মত এবারও অনেকটা বাড়তি দামেই পছন্দের শাড়ি নিতে হচ্ছে ক্রেতাদের। শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় মুখরিত হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্প এলাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার সদর, দেলদুয়ার, কালিহাতী, ঘাটাইল, মির্জাপুরসহ অন্যান্য উপজেলার তাঁত শিল্প এলাকা গুলোতে প্রবেশ করলেই শুনা যাচ্ছে তাতেঁর খটখটি শব্দ। দিন রাত চলছে এই কাপড় বুনানোর প্রাতিযোগিতা। ঈদে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে টাঙ্গাইলের বিখ্যাত তাঁত পল্লী পাথরাইল, চন্ডি, বাজিতপুর ও পুটিয়াজানির মত অনেক গ্রামেই এখন তাঁতিদের ব্যস্ত সময় কাটছে। সুতি জামদানী, সপ্টসিল্ক, ধানসিঁড়ি, বালুচুরি, গ্যাসসিল্ক, স্বর্ণকাতান, দোতারি, চোষা ও রেশম শাড়ির মত বাহারি ডিজাইনের শাড়ি বুননের পর তা সরবরাহ করা হচ্ছে সারাদেশে।
সিলেট থেকে কাপড় কিনতে আসা রাকিবুল হাসান নামে এক শাড়ি ব্যবসায়ী জানান তাঁত শাড়ীর জন্য বাজিতপুর হাটের সুনাম রয়েছে। বাজিতপুর হাটে অনেক রকমের ডিজাইনের কাপড় সরাসরি তাঁতীতের কাছ থেকে সুলভ মুল্যে পাওয়া যায়। এ হাট থেকে পাইকাররা কাপড় ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জেলায় খুচরা বিক্রি করে থাকেন। তবে এবার সুতার দাম বেশি বলে টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ির দাম একটু বেশি।

নওগাঁ থেকে আসা ক্রেতা বাদশা মিঞা জানান, ঈদ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের তাঁত শাড়ির কদর রয়েছে বাংলার রমনিদের কাছে। এ হাটে দেশের প্রায় সকল জেলার পাইকারী ক্রেতারা কাপড় ক্রয় করছেন। এ বছর কাপড়ের দাম একটু বেশি। তবে টাঙ্গাইলের শাড়ীর চাহিদা কমেনি।
রাজধানী ঢাকা থেকে খুচরা কাপড় কিনতে আসা রেজিয়া বেগম জানান, টাঙ্গাইলের শাড়ির সুনাম দেশব্যাপী। তিনি নিজেও এ শাড়ি পছন্দ করেন। তাই সরাসরি তাঁতীদের কাছ থেকে কাপড় কেনার জন্য টাঙ্গাইলে এসেছেন ।
তাঁত শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন তাদের গড় আয় ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। ঈদে যাতে তাদের অভাব না থাকে এজন্য তারা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তবে উচ্চ মজুরি আর যাবতীয় সুযোগ সুবিধা পেয়ে তারা ঠিকমত পান না। তবে ঈদের আগে বোনাসের টাকা নিয়ে বাহানা না করার জন্য তাঁত মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

টাঙ্গাইল শাড়ি ও তাঁত বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক রতন বসাক জানান, তাঁতের ব্যবসা পরিচালনা করতে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। সরকার যদি অল্প সুদে তাঁতীদের ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করতেন তাহলে তাঁত ব্যবসায়ীদের এত হিমশিম খেতে হতোনা। সুতার দাম অস্থিতিশীল। এ কারনে তাদের মুনাফা কম হচ্ছে।
জেলার তাঁতীরা অনেক ডিজাইনের শাড়ি ঈদ উপলক্ষে তৈরি করেছেন। এদের মধ্যে সিল্ক, বিখ্যাত জামদানি,সফশিল্ক, দোতারি, ডেঙ্গু, রেশম, তশর, ফ্ররফ্লাই। সিল্ক শাড়ি সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার, নেট জুট সাড়ে ১০ হাজার, বাহার শাড়ি সাড়ে ১৬ হাজার, কটন জুট আড়াই হাজার, টিসু সিল্ক সাড়ে ৪ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সারাবাংলা/এমএইচ