ঢাকা: পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে যারা পরাজিত শক্তির সঙ্গে আঁতাত করবে, তারা জনগণের কাছে চিহ্নিত হয়ে যাবে। ককটেল বিস্ফোরণসহ অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনের কর্মসূচি ঘোষণা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, যারা দেশকে রক্তাক্ত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছিল, তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে এর দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে সরকার আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষা থেকেই ওই বিপ্লবের সূত্রপাত হয়।
তিনি দাবি করেন, সিপাহি-জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিপ্লবের মহানায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন। এর মধ্য দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মুক্তভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ ফিরে আসে। ৭ নভেম্বরের চেতনাই পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির কর্মসূচি
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আয়োজন করা হবে। ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা সভা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে পোস্টার প্রকাশ, চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মীর সরাফত আলী সপুসহ অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।