Monday 04 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে মাঠে ফিরল ‘নতুন কুঁড়ি’

ডিস্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট
২ মে ২০২৬ ১৮:১৪ | আপডেট: ২ মে ২০২৬ ১৯:০৩

‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সিলেট: দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভা অন্বেষণে জাতীয় পর্যায়ের মেগা কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এদিন বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় স্টেডিয়াম জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। বিকেল পৌনে ৪টায় জাতীয় সঙ্গীতের ইনস্ট্রুমেন্টাল সুর বাজানো হয়।

তখন প্রধানমন্ত্রীসহ গ্যালারিতে উপস্থিত বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এর পর পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে নতুন ‘কুঁড়ি স্পোর্টস’র ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র পরিবেশন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনের আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, নির্বাচনি ইশতেহারে ক্রীড়া খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এরই মধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতার মতো সময়োপযোগী উদ্যোগ চালু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ হবে অদেখা প্রতিভা খুঁজে বের করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। এবারই প্রথম রাজধানীর বাইরে সিলেট থেকে এ ধরনের বড় আয়োজনের সূচনা করা হচ্ছে।’

সিলেটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। ছবি: সংগৃহীত

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট- এই ৮টি খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

পুরো প্রতিযোগিতাকে প্রশাসনিকভাবে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো- ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দু’টি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে।

ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন হবে নকআউট পদ্ধতিতে। দাবা প্রতিযোগিতা হবে সুইস-লিগ পদ্ধতিতে। অন্যদিকে অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৩ থেকে ২২ মে’র মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ের সব কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে জাতীয় পর্যায়ের সেরা খেলোয়াড়দের নির্বাচন করা হবে।

সিলেটে উদ্বোধনী এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনসহ সার্বিক উন্নয়নে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

উল্লেখ্য, ‘নতুন কুঁড়ি’ ছিল একটি জাতীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি, যা ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। এটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সম্প্রচারিত হতো এবং এখান থেকেই দেশের অনেক বড় বড় শিল্পী তৈরি হয়েছেন।

সাংস্কৃতিক ‘নতুন কুঁড়ি’ নিয়মিতভাবে ২০০৫-২০০৬ সাল পর্যন্ত চলেছে। এরপর দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ ছিল। মাঝখানে ২০১৩ বা ২০২২ সালের দিকে বিটিভি এটি পুনরায় চালু করার ছোটখাটো উদ্যোগ নিলেও সেটি আর আগের মতো নিয়মিত বা জাতীয় উৎসবে পরিণত হতে পারেনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর