বিদায়ের মঞ্চে এর চেয়ে ভালো চিত্রনাট্য আর কী হতে পারত! আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবার মাঠে নেমে গোল করেছেন লিওনেল মেসি, গোল করিয়েছেন আরও দুটি। তাঁর পাস থেকে গোল করেছেন নিকোলাস পাজ, আর মেসির সঙ্গে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে নামা নিকোলাস ওতামেন্দিও গোল করেছেন মেসির কর্নার কিক থেকে বল পেয়ে।
শেষ ম্যাচে মেসির এমন নজরকাড়া পারফরম্যান্সে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। মঙ্গলবার বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল প্রতিযোগিতার চেয়ে বড় এক বিদায়ী আয়োজন। ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখতে নেমেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ম্যাচ শুরুর আগেই বোঝা যাচ্ছিল, মনুমেন্তালে সেদিন ফুটবলের চেয়ে আবেগের দাপটই বেশি থাকবে, হলোও তাই। জাতীয় সংগীত যখন বেজে উঠল তখন আবেগ সামলাতে পারেননি মেসি। ম্যাচের ১০ মিনিটে খেলা থামিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে সম্মান জানাতে। গ্যালারিজুড়ে তখন শুধু করতালি আর মেসির নামে স্লোগান।
তবে বিদায়ী ম্যাচ বলেই যে মেসি শুধু আবেগের মধ্যে ছিলেন, তা কিন্তু নয়। তিনি যে একজন লিওনেল মেসি! শুরু থেকেই বল পায়ে স্বচ্ছন্দে ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে কয়েকবার গোলের সুযোগও তৈরি করেন। বেনিনের গোলরক্ষক অবশ্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তাঁকে আটকে রাখেন। বিরতির আগে গোল না এলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আর্জেন্টিনার হাতেই।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলে যায় ম্যাচের স্কোরলাইন। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে দুর্দান্ত অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে বল জালে পাঠান বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামা ওতামেন্দি। মেসির মতোই আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডারের শেষ ম্যাচটা হয়ে থাকল স্মরণীয়। গোলের কিছুক্ষণ পর মাঠ ছাড়ার সময় মনুমেন্তালের দর্শকের কাছ থেকে তুমুল অভিবাদন পান ওতামেন্দি।
এরপর মঞ্চটা আরও একবার নিজের করে নেন মেসি। ডান দিকের আক্রমণ থেকে বল নিয়ে সামনে এগিয়ে নিকোলাস পাজকে পাস বাড়ান তিনি। তরুণ এই মিডফিল্ডার বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বেনিনের জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধের ২৬ মিনিটে বিদায়ী গোলটাও পেলেন মেসি। বক্সের ভেতর ফাউলের পর পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন অধিনায়ক নিজেই। ঠান্ডা মাথায় বল পাঠিয়ে দেন বেনিনের গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচে নিজের গোল দিয়ে নিজের বিদায়কেও পূর্ণতা দেন তিনি।
শেষ বাঁশির পর মেসিকে ঘিরে তৈরি হয় আরও এক আবেগঘন দৃশ্য। সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও দর্শকদের ভালোবাসায় বিদায় নেন তিনি। মনুমেন্তালের গ্যালারিতে ছিল বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনার সাবেক প্রজন্মের প্রতিনিধিরাও। ম্যাচ শেষে ড্রোন শো ও নানা আয়োজনে উদ্যাপন করা হয় মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
বেনিন ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে মেসির পরিসংখ্যান থামল ২০৮ ম্যাচ ও ১২৬ গোলে। দুই দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় তিনি জিতেছেন ২০২২ বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকা। একসময় সমালোচনার মুখে থাকা সেই মেসিই শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে সফল প্রজন্মের নেতৃত্ব দিয়ে বিদায় নিলেন।