ফরিদপুর: ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের গোলচত্তরে গাড়ি পার্কিং নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ায় এক যুবক। এ সময় গাড়ির ভেতর থেকে পিস্তল বের করে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে হুমকি দিলে আতংকিত হয়ে ছুটাছুটি করে পথচারীরা। গত ১৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে এমন ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সোশাল মিডিয়ায়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলনে কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহম্মদ মিয়াজী এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গুলি ছোঁড়া ব্যক্তির মো. হামিদুল গাজী। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলদিয়া গোয়ালী মান্দ্রা গ্রামের মোতালেব গাজীর ছেলে।
পুলিশ সুপার লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ১৭ আগস্ট ভাঙ্গা থানাধীন এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপর ও ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক ব্যক্তি একটি খয়েরি রং-এর প্রাইভেটকারে সেখানে আসে। এ সময় তার সাথে গাড়িতে এক নারী আরোহী ছিলেন। তখন পথচারী সহিত গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে প্রাইভেটকারযোগে আসা ব্যক্তি গাড়িতে বসে তার কাছে থাকা রিভলবার দিয়া পথচারীকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। সেই ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয় এবং স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় ঘটনাটি প্রচারিত হয়। এরপর থেকে বিষয়টি ভাঙ্গা থানা পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে।
পরে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ান(এসআরবি)-১ সহযোগিতায় ১৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানা পুলিশ আসামী মো. হামিদুল গাজী (৪২)কে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তার সঙ্গে থাকা নারী আরোহী শিমু আক্তার তিশা ওরফে ফাতেমা ইসলাম এনিকে (২৬) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় আসামির মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়ি জব্দ করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করে যে ঘটনার দিন ব্যবহৃত অস্ত্রটি তার। লৌহজং এর নিজ বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটে লুকিয়ে রাখা রিভলবারটি উদ্ধার করা হয়।
উল্লেখ্যে, গত ১৭ আগস্টের ঘটনায় ভাঙ্গা থানা এলাকায় কিলো-৭৭ কল সাইনে পেট্রোল ডিউটিরত এসআই(নি.) প্রশান্ত কুমার মন্ডল বাদী হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর আসামির নামে ভাঙ্গা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করেন।