সাতক্ষীরা: শহরের একটি চায়ের দোকানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাপ্পি হাসানকে মারধর থেকে রক্ষা করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে জাকারিয়া খান (১৯) হত্যার ঘটনায় মুহিদ হাসান রনি নামে এক মাদরাসাছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) তাকে আটক করা হয়। আটক রনি সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার ফিরোজউদ্দিনের ছেলে এবং শহরের আলিয়া মাদরাসার একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
নিহত জাকারিয়া খান শহরের কাটিয়া এলাকার রুচিরা বেকারির মালিক আব্দুল গফুর খানের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রত্যাশী ছিলেন।
সাতক্ষীরা শহরের সঙ্গীতা মোড় এলাকার প্রাণিসম্পদ অফিসের প্রধান ফটকের পাশের চায়ের দোকানদার রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল থেকে প্রাণিসম্পদ অফিস মোড়ে যুবদল ও ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা চলছিল। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে ইটাগাছার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে নাহিদ ইসলাম রনিসহ ৯-১০ জন তার দোকানে সিগারেট কিনতে আসেন। তিনি তাদের সিগারেট দেননি।
এ সময় তার দোকানে চা বানাচ্ছিলেন পল্লীমঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে পাস করা বাপ্পি হাসান। চায়ের বিল চাওয়াকে কেন্দ্র করে রনিসহ তার সহযোগীদের সঙ্গে বাপ্পির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা বাপ্পিকে মারধর করে আহত করেন।
রবিউল ইসলাম বলেন, এ সময় রুচিরা বেকারির মালিকের ছেলে জাকারিয়া খান বাপ্পিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন। প্রতিবাদ করায় রনি তাকে ছুরি দিয়ে বুকে ও পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।
পরে জাকারিয়া ও বাপ্পিকে উদ্ধার করে রাত ১২টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফুসফুসে ছুরিকাঘাত লাগায় জাকারিয়ার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কাটিয়া এলাকার ইসমাইল হোসেন জানান, তার ভাইপো জাকারিয়া খান শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে লাবণী মোড়ে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রুচিরা বেকারি থেকে বের হয়ে ইটাগাছায় তার মামার দোকানে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে প্রাণিসম্পদ অফিসের প্রধান ফটকের পাশে রবিউলের চায়ের দোকানে বাপ্পি হাসানকে কিশোর গ্যাং-এর সসদস্য রনি ও তার সহযোগীদের হাত থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
এ ঘটনায় জাকারিয়ার ভাই শাহারিয়ার খান বাদী হয়ে শনিবার (৩ অক্টোবর) থানায় এজাহার দিয়েছেন বলে জানান স্বজনেরা।
সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহীদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জাকারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শনিবার সকালে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।