খুলনা: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ আজ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা এবং ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। এই লংমার্চ কেবল একটি কর্মসূচি নয়, এটি মজলুম মানবতার পক্ষে এবং আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের ঐতিহাসিক হুংকার।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ৭ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া লংমার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে খুলনা অঞ্চল জামায়াতে ইসলামী উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খুলনাঞ্চলের মা-বোন, ছাত্র-জনতা ও শ্রমিক ভাইদেরকে এই লংমার্চে দলে দলে যোগ দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের নায্য অধিকার আদায়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়তে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থামবে। আগামী ৩১ অক্টোবরের লংমার্চকে সর্বাত্মক ও ইতিহাসের সেরা রূপ দিতে হবে। কাটাখালী থেকে শুরু করে শিববাড়ি মোড় এবং ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর পর্যন্ত খুলনার প্রতিটি সড়ক জনস্রোতে পরিণত করতে হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চ উপলক্ষ্যে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়, খুলনার শিববাড়ি মোড় ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর জনস্রোতে রূপ নেবে। খুলনাঞ্চলের মানুষ নিজেদের অধিকার, ন্যায়বিচার ও মুক্তির প্রশ্নে আপসহীন। এই শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল কর্মসূচি যেন দেশের প্রতিটি প্রান্তে বার্তা পৌঁছে দেয় যে, এ দেশের জনগণ তাদের নায্য অধিকার আদায় করতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, এই লংমার্চ কোনো সাধারণ কর্মসূচি নয়; এটি জুলুম-নিপীড়ন, বৈষম্য এবং জনগণের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে একটি জোরালো প্রতিবাদ। দেশের প্রতিটি নাগরিকের বাকস্বাধীনতা, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা আজ সময়ের দাবি। ফ্যাসিবাদী ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের এই ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামকে টিকিয়ে রাখতে হলে ঘরে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই লংমার্চকে সফল করতে হবে।
সভায় জানানো হয়, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারুসংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি রোধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনামুখী লংমার্চ শুরু হবে ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে। ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় সেখানে উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে লংমার্চ খুলনার উদ্দেশে রওনা হবে। কুষ্টিয়ায় হবে সমাপনী সমাবেশ। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা লংমার্চে নেতৃত্ব দেবেন।
সভায় লংমার্চ কর্মসূচির সফলভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রস্তুতিসভা, গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিতরণ, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ১১দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সর্বস্তরের দায়িত্বশীলদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনসহ সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, টিম সদস্য মাওলানা মো. মশিউর রহমান খান এমপি ও মাস্টার শফিকুল আলম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, খুলনা মহানগরী নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা গোলাম সরোয়ার ও অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, বাগেরহাট জেলা সেক্রেটারি শেখ মুহাম্মদ ইউনুস, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী প্রমুখ।