রংপুর: রংপুরের পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর উপজেলায় পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এক ঘটনায় কৃষককে পিটিয়ে হত্যার পর ট্রান্সফরমার চুরি করা হয়েছে, অপর ঘটনায় এক ব্যক্তির গলা কেটে লাশ ফেলে রাখা হয়েছে।
এ দুই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং এ পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জের আলমপুর ইউনিয়নের বড় ওমরপুর এলাকার কৃষক মফিজার রহমান স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে যৌথভাবে বোরো ধানের জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার স্থাপন করেছিলেন। নিয়মিতভাবে রাতের বেলায় গভীর নলকূপ পাহারা দিতেন তিনি। বুধবার (৬ মে) রাতেও পাহারা দিতে যান। পরে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে স্থানীয় লোকজন নলকূপের ঘরের ভেতর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ দেখতে পান।
পুলিশের ধারণা, তাকে পিটিয়ে হত্যার পর বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারটি চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
নিহতের চাচাতো ভাই আবুল কাশেম বলেন, ‘এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
অপর দিকে, মিঠাপুকুরের ময়েনপুর ইউনিয়নে বৃহস্পতিবার সকালে নাগেরহাট-কদমতলা সড়কের কসবা এলাকার একটি আমবাগানের পাশে আবু সাঈদ নামে এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। নিহতের গলা ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, দুর্বৃত্তরা তাকে গলা কেটে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়।
আবু সাঈদ মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের উঁচাবালুয়া বালাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি গরুর খামার পরিচালনা করতেন।
স্বজনরা জানান, বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় বাড়ির কাজ শেষে পাশের শাল্টির বাজারে যান আবু সাঈদ। রাত ৮টার দিকে চাচা বিপুল মিয়ার সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। এরপর রাতভর তিনি বাড়ি না ফেরায় বৃহস্পতিবার সকালে ফেসবুকে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন স্বজনরা।
দু’জনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত এসব ঘটনায় মামলা হয়নি। কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অফিসার ইনচার্জ) নাজমুল হক বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।’
মিঠাপুকুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুর আলম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
স্থানীয় ও স্বজনরা উভয় ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।