কুমিল্লা: বুড়িচংয়ে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) রাতে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী ভোমরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১ এর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মিঠুন কুমার কুণ্ডু।
গ্রেফতার আসামির নাম জহির ইসলাম আপন ওরফে জহির হিজড়া (৪৬)। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রামপাল এলাকার মৃত জাফর আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি বুড়িচং বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন সরকারি টিনশেড আবাসনে বসবাস করেন।
এর আগে, গত ১৩ মে সকাল ১০টার দিকে বুড়িচং বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সসংলগ্ন একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এনামুল হক শিশির মাহি (২৯) তৃতীয় লিঙ্গের একজন ব্যক্তি ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব বিরোধের জেরে আসামিরা শিশির মাহিরের হাত-পা বেঁধে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। শিশিরের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ মে ভোর ৪টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিহত ও আসামিরা সবাই তৃতীয় লিঙ্গের এবং দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করতেন। তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।