ফরিদপুর: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১১জন শিশু মারা গেছে। এছাড়া, বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন ৫৫ জন শিশুসহ ১৬১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে জেলা সিভিল সার্জন ডা, মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে রাইসা নামের ৬ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মৃত রাইসা ফরিদপুর জেলার নগরকান্দার উপজেলার রসুলপুর গ্রামের রাব্বি শেখের মেয়ে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে বিকেলে হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু রাইসা কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ দিন পরে গতকাল সোমবার (১৮ মে) দুপুরে মারা যায় শিশুটি।
এছাড়াও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জ্বর,সর্দিকাশি ও হামের উপসর্গ নিয়ে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ২২ জন ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জনসহ ওই তিনটি হাসপাতালে ১৬১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে জেলায় ১২৭৯ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে।
এদিকে এ বছর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ১১ জন শিশু মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। যাদের মধ্যে মাদারিপুরে ২, ফরিদপুরে ৩ গোপালগঞ্জ ৩, রাজবাড়ী, মাগুরা ও যশোরের একজন করে শিশু রয়েছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশের ন্যায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি জেলায় চলমান রয়েছে যা আগামী ১০ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ক্যাম্পেইনের আওতায় জেলার মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৫ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র, ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জেলায় মোট ২ হাজার ৬৯৩ টি কেন্দ্রে হাম-রুবেলার টিকা দানের প্রস্তুতি রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে হাম প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।