Tuesday 19 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ডিজিটাল প্রযুক্তিতে মিলবে ভূমিসেবা, বন্ধ হবে দুর্নীতি: প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৯ মে ২০২৬ ১২:৫৫

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা: ভূমিসেবা আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ভূমি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণকে সেবা দেওয়া কোনো করুণা নয়, বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের টেকসই উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর ভূমি ভবনে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনের সময় সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনে উপস্থিত হয়ে সারাদেশে একযোগে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে যে জমির মালিক ছিলেন মাত্র একজন, সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানে সেই জমির মালিক হয়তো একশ বা তারও বেশি। জমির মালিকানা ও শরিকানা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াকে নির্ভুল রেকর্ডে রাখার জন্য ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্বও বহুগুণ বেড়েছে।

মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা বা সি-এস, আর-এস ও ডি-এস শব্দগুলোর সঙ্গে জমির মালিক মাত্রই কমবেশি পরিচিত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সাথে আমাদের ভূমি ব্যবস্থাপনাও আধুনিক হয়েছে। সেবাগ্রহীতাগণ নিজের জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বর্তমানে ঘরে বসেই অনলাইনে সম্পন্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, যারা অনলাইনে নিজেরা জমিজমার খাজনা প্রদান কিংবা প্রয়োজনীয় কার্যক্রমগুলো করতে সক্ষম নন, তাদের জন্য বিশেষ ভূমি সহায়তা সেবা কেন্দ্র রয়েছে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পরিচালনায় এরইমধ্যে দেশের ৬১টি জেলায় বর্তমানে ৮৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত সেবামূল্যের বিনিময়ে নাগরিকগণ সহজেই ভূমিসেবার আবেদন করতে পারছেন এবং সরকারি ফি পরিশোধ করতে সক্ষম হচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের আরও ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এর পাশাপাশি নাগরিকদের হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে চালু করা হয়েছে মোবাইল অ্যাপ ‘ভূমি’।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভূমি-জমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর করা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও তত বেশি সহজ হয়ে যায়। জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত করায় জমিজমা সংক্রান্ত মানুষের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে। একইসঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমি অফিসগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালের দৌরাত্ম্য কমবে। চলমান এই ভূমিমেলা আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণের নিজেদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন করবে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে আসায় জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং জটিলতাও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পরিবারের শান্তি নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা বর্তমান সময়ের অপরিহার্য দাবি।

উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করতে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি প্রশাসনের প্রায় সকল সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে নাগরিকদের জন্য সেবা গ্রহণকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে ভূমিসেবা গ্রহণের জন্য মানুষকে আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।

এই মেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ এবং ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির সুবিধা থাকছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর