নীলফামারী: নীলফামারীতে যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আল আমিনকে (২২) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বড়ডাঙ্গা বাজার এলাকার একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (২০ মে) গ্রেফতারের এ ঘটনা ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার (২১ মে) নীলফামারী সদর থানায় তাকে হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালে সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সাদিয়া আক্তারের সঙ্গে একই ইউনিয়নের আল আমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আলামিন ও তার পরিবারের সদস্যরা সাদিয়ার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। কিন্তু সাদিয়ার মা ওই টাকা দিতে পারেননি।
অভিযোগে বলা হয়, যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় প্রায়ই সাদিয়ার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসা হলেও আসামিরা যৌতুকের দাবিতে অনড় ছিল।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি পুনরায় যৌতুকের টাকা দাবি করলে সাদিয়ার সঙ্গে আসামিদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আল আমিন বাঁশের লাঠি দিয়ে সাদিয়াকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে অন্যান্য আসামিরাও তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময় সাদিয়া ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
ঘটনার পর আল আমিন মোবাইলফোনে সাদিয়ার মাকে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়ে অন্য আসামিদের নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা ঘরের ভেতরে সাদিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
এ ঘটনায় গত ২ মার্চ নিহতের মা হাসি বেগম বাদী হয়ে নীলফামারী সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (ক)/৩০ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি আল আমিনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য নীলফামারী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে র্যাব।