ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৮টিতে জয় নিশ্চিত করে সরকার গঠন করছে দলটি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৭৯টি আসন।
সোমবার (৪ মে) রাতে ভারতের নির্বাচন কমিশন এই ফলাফল ঘোষণা করেছে।
জানা গেছে, মোট ২৯৩ আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। সেই হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনেক বেশি আসন পেয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শেষে সোমবার (৪ মে) সকাল থেকে শুরু হয় ভোটগণনা। এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেও হেরে গেছেন। তিনি ভবানিপুর আসন থেকে নির্বাচন করে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হেরেছেন।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি একশরও বেশি আসন লুট করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এছাড়া তিনি ধাক্কা দেওয়া ও মারারও অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ ও অন্যান্য রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচন নিয়ে ভাষণ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদি তার ভাষণে বলছেন, এবারের ভোটের মাধ্যমে বাংলায় পরিবর্তন এসেছে। বাংলা ভয় থেকে মুক্ত হয়েছে এবং এখন আত্মবিশ্বাস ও উন্নয়ন দ্বারা রাজ্যটি পূর্ণ হয়েছে।
মোদি বলেছেন, ‘বাংলায় বিজেপির এই সাফল্যের কৃতিত্ব আমি বাংলার সাধারণ মানুষকে উৎসর্গ করছি। বাংলার এই পবিত্র ভূমিতে এক নতুন সূর্যোদয় হয়েছে।’
তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর নারীরা তৃণমূল ও ডিএমকে-কে শাস্তি দিয়েছে উল্লেখ করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি কিছুদিন আগেই বলেছিলাম, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের বিরোধিতা যারা করবে, তাদের নারীশক্তির রোষানলে পড়তে হবে। আমাদের দেশের মা-বোনেরা এখন কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে-কে সেই শাস্তিই দিয়েছে।’
বিজেপির এই জয়ে মমতার ১৫ বছরের শাসনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। এর আগে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে লড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে হারতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। শেষ হাসি হাসেন শুভেন্দুই। প্রায় ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে জয় ছিনিয়ে আনেন লোকসভার সাবেক এই সাংসদ। এবার নন্দিগ্রামসহ মমতার ভবানিপুরে ১৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু।