ঢাকা: সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ডা. আ ক ম জামাল উদ্দিনকে ফের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
এদিন পল্টন থানার উপপরিদর্শক মো. নুরুজ্জামান মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে জামাল উদ্দিনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামাল উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ১৮ মে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদস্য, অর্থদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতারা রাজধানীর গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম ও আশপাশের এলাকায় নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে সমবেত হন।
এ সময় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের বিপরীত পাশে হোটেল ইম্পেরিয়ালের সামনে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় অজ্ঞাতনামা প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ জন বিভিন্ন দিকে পালিয়ে যান। তদন্তে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের দাবি, জামাল উদ্দিন নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ, সংগঠনের আদর্শ ও কর্মকাণ্ডে সমর্থন এবং অপরাধের ষড়যন্ত্র ও প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকার বিভিন্ন সরকারবিরোধী মিছিল-মিটিংয়ে তার নেতৃত্ব দেওয়ার তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ১৯ মে পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর আগে একই আইনের আরেকটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে গত ১১ মার্চ থেকে কারাগারে রয়েছেন অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন। নতুন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর পর আদালতের আদেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।