ঢাকা: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির প্রার্থী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হলেও তার গেজেট প্রকাশ না করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন দলটির আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিন।
রোববার (৩ মে) রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এই আবেদন জমা দেন তিনি।
চিঠিতে মনিরা শারমিন উল্লেখ করেন, এনসিপি থেকে তাকে প্রথমে মনোনীত করা হলেও গত ২৩ এপ্রিল তার মনোনয়নপত্র বেআইনিভাবে বাতিল করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আপিল করলেও সেটি খারিজ হয়ে যায়, যার প্রেক্ষিতে তিনি হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। এই রিট মামলার শুনানি ৪ মে হওয়ার কথা রয়েছে।
আবেদনে মনিরা শারমিন দাবি করেন, যেহেতু তার রিট আবেদনের শুনানি এখনও বাকি, তাই আদালতের সিদ্ধান্ত আসার আগে অন্য কোনো প্রার্থীর নামে গেজেট প্রকাশ করা উচিত নয়।
তিনি আরও জানান যে, দল তাকেই প্রথমে মনোনয়ন দিয়েছিল, তাই আদালতের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা জরুরি, অন্যথায় তিনি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
উল্লেখ্য, সরকারি ব্যাংক থেকে অবসরের তিন বছর পার না হওয়ায় মনিরার প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে গত ২১ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন জমা পড়েছিল।
শুরুতে সময় অতিক্রান্ত হওয়ার কারণে সেটি গ্রহণ করা না হলেও পরবর্তীতে নুসরাত হাইকোর্টের আশ্রয় নেন এবং আদালতের নির্দেশে রিটার্নিং কর্মকর্তা গত ২ মে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
এদিকে নুসরাত তাবাসসুমকে এরই মধ্যে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে নুসরাতের সংসদ সদস্য হওয়ার বিষয়টি এখন ঝুলে আছে মনিরা শারমিনের রিট আবেদনের ওপর। যদি উচ্চ আদালত মনিরার মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দেন, তবে আসনটিতে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে এবং জামায়াত জোটের প্রার্থীরা ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।
অন্যদিকে যদি মনিরার আবেদন খারিজ হয়ে যায়, তবে নুসরাত তাবাসসুম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে সংসদে যাবেন।