ঢাকা: সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফার তিন বছর পার না হওয়ায় জামায়াত জোটের ও এনসিপি’র নেত্রী মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিমনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে ইসি এমন সিদ্ধান্ত জানায়।
শুনানি শেষে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘মনিরা শারমিনের আপিল আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। তার মনোনয়নপত্র বাতিল থাকল।’
এদিকে, ইসির এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে আপিল করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মনিরা শারমিন।
এ বিষয়ে মনিরা বলেন, ‘সরকারি চাকরি হিসেবে আমি যে কাজ করেছি, সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ক্ষমতা ছিল না। কাজেই আমি মনে করি না যে এটা মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার মতো।’
এর আগে, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) জামায়াত জোট মনোনীত ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে মনিরা শারমিনের মনোনয়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়। শুনানিতে জানা যায়, মনিরা শারমিন আগে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন এবং বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন।
উল্লেখ্য, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা অব্যাহতির পর তিন বছর অতিক্রান্ত না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জিত হয় না। এ বিধান বিবেচনায় নিয়েই তার প্রার্থিতা যাচাই করা হয়।
এর আগে, ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি আসনের ৪৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
বৈধ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের ১২ জন ও স্বতন্ত্র জোটের একজন রয়েছেন। এখন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় পার হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন তারা।
তবে বর্তমান অবস্থায় জামায়াত জাতীয় সংসদের একটি আসন কম পেতে পারে। অর্থাৎ তাদের জন্য বন্টন করা ১৩টি আসন থেকে কমে ১২টিতে দাঁড়াতে পারে। কারণ ওই আসনটি উন্মুক্ত হিসেবে নতুন তফসিলে ভোট হবে। আর সংসদে ভোট বেশি থাকায় আসনটি বিএনপি জোটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি হবে। ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ আর ভোট হবে ১২ মে।