Thursday 24 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান তারেক রহমানের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৪০ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৫০

জাতিসংঘ সদর দফতরে বক্তব্য দিচ্ছেন তারেক রহমান।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এককভাবে নয়, সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ০ দশমিক ৫ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশের সমপরিমাণ। একই সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন ও সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগসহ সবুজ শিল্পের প্রসার ঘটানো হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজ চলছে।

তবে এসব লক্ষ্য এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে এখন সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।

পাঁচ দফা প্রস্তাব

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় উচ্চপর্যায়ের সভায় পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রস্তাবগুলো হলো—

১. প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে।

২. জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

৩. জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণ সম্ভব করতে হবে।

৪. সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে।

৫. ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণ করতে হবে।

২৫ কোটি গাছ লাগাবে বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ করা হচ্ছে।

পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।’

সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং টেকসই ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করাই ছিল বৈঠকের মূল লক্ষ্য। এতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

 

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর