Sunday 03 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬
বরিশাল-সিলেটে ‘পিটিসি’ ও জঙ্গল সলিমপুরে ‘একাডেমির’ দাবি আসছে

উজ্জল জিসান স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১ মে ২০২৬ ০৮:০০ | আপডেট: ১ মে ২০২৬ ১০:২৭

বাংলাদেশ পুলিশ। ফাইল ছবি

ঢাকা: আসছে ১০ মে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’। গণঅভ্যুত্থানের পর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর এটি হচ্ছে প্রথম পুলিশ সপ্তাহ। প্রায় ১৭ বছর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার পুলিশ সপ্তাহ পালন করতে যাচ্ছে। এই পুলিশ সপ্তাহ ঘিরে সরকার ও পুলিশের মধ্যে নানান বিষয় নিয়ে বোঝাপড়া যেমন রয়েছে, তেমনি আগামী দিনে মাঠে সরকারকে কী ধরণের সহযোগিতা করবে সে নির্দেশনাও থাকবে। এ কারণে এবারের পুলিশ সপ্তাহ খুবই গুরুত্বপুর্ণ।

পুলিশ সদর দফতর গত ১৭ বছর যা পায়নি, যা বলতে পারেনি, আর যা আদায় করতে পারেনি- তার সবকিছুর দাবি নিয়ে প্রস্তুত বাহিনীটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বেশ কিছু দাবির তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সব দাবি পুলিশ সপ্তাহে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। নতুন সরকারের পক্ষ থেকেও পুলিশের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণের কথা রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- বরিশাল ও সিলেট বিভাগে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) স্থাপন, জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ লাইন্স একাডেমি স্থাপন, রংপুরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) স্থাপন, বগুড়ায় শিল্প পুলিশ ইউনিট স্থাপন ও পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ পুলিশ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য বারবার আলোচনায় এসেছে। সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল পাহাড়ঘেরা এই অঞ্চল। তবে গত ৯ মার্চ সলিমপুরে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির তিন হাজার ২০০ সদস্য যৌথ অভিযান চালিয়ে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেন। এখন সেখানে পুলিশের ৪০০ সদস্য দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে নজরদারি করছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পুলিশ সদর দফতরের একাধিক সূত্র থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন) নাজিমুল হক বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুর এখন আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাহাড়ের ওপর সন্ত্রাসীদের যেসব চেকপোস্টের মতো স্থাপনা ছিল, এসব গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে এখন শঙ্কা নেই। সন্ত্রাসীরা বুঝে গেছে, তারা এখন সলিমপুরে নিরাপদ নয়। তাই অনেকে গা-ঢাকা দিয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, ফাঁড়ি, কারাগারসহ– এমন বেশ কিছু সরকারি স্থাপনার প্রস্তাবনা রয়েছে। এগুলো হয়ে গেলে জঙ্গল সলিমপুর হবে আলোকিত এলাকা।’

আরআরএফ হলো পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট, যা মূলত রেঞ্জ ডিআইজির অধীনে রিজার্ভ ফোওর্স হিসেবে কাজ করে। বর্তমানে পুলিশের একমাত্র একাডেমি রয়েছে রাজশাহীর সারদায়। পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিমত, জঙ্গল সলিমপুরের মতো জায়গায় এই ধরনের স্থাপনা তৈরি করা গেলে সেখানে আইনশৃঙ্খলায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পুলিশের একজন উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সারাবাংলাকে বলেন, ‘অন্যান্য প্রস্তাবনার পাশাপাশি স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।’ সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজ করেন তাদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার, গুজব, উসকানিমূলক প্রচার, ব্যক্তি চরিত্র হরণ, প্রতারণা ও ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনা প্রতিরোধে এবং ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম বাড়ানোর সুযোগে সাইবার অপরাধীদের অনলাইনে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া প্রতিরোধে সাইবার ইউনিট গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে।

সাইবার জগতে অপরাধের শিকার ৮৯ শতাংশ ভুক্তভোগী লোকলজ্জার ভয়ে মামলা করেন না। অল্প মামলা হলেও উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে ৭২ শতাংশ মামলা খারিজ হয়ে যায়। পূর্ণাঙ্গ সাইবার ইউনিট না হলে ডিজিটাল জালিয়াতি ও অপরাধ মোকাবিলা করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

এদিকে পুলিশের দুটি পুলিশ প্রশিক্ষণ সেন্টার (পিটিসি) গঠনের প্রস্তাব আসতে পারে। বর্তমানে আট বিভাগে চারটি পিটিসি রয়েছে। প্রতি বিভাগের জনবলের জন্য দূরত্ব বিবেচনায় একটি পিটিসি থাকা প্রয়োজন। শিগগির সেটি সম্ভব না হলে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জে ও বরিশালে পিটিসির স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা কথা তুলে ধরবে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরিবেশ পুলিশ ইউনিট গঠনের বিষয়টি এবারের পুলিশ সপ্তাহে গুরুত্বসহকারে আসতে পারে। এর পক্ষে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য হলো– নদী, খাল, বন দখল, বালু, পাথর-ইটভাটার মাধ্যমে বায়ুদূষণ, পাহাড় কাটা, মাটির ওপরের স্তর উত্তোলন, মানবসৃষ্ট অপরাধ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায়ই প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডেকে আনে। পরিবেশ পুলিশ ইউনিট হলে এই আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন পুলিশ সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া রংপুর বিভাগে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রস্তাব আসতে পারে। প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে এক বা একাধিক ব্যাটালিয়ন থাকলেও বৃহত্তর রংপুর বিভাগে আর্মড পুলিশের কোনো ব্যাটালিয়ন নেই। তাই ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী জেলায় চোরাচালান, মাদক নিয়ন্ত্রণে ১৫ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন রংপুর নামে একটি স্বয়ংসর্ম্পূণ ব্যাটালিয়ন গঠন প্রয়োজন। এ ছাড়া, বগুড়ায় শিল্প পুলিশের জন্য একটি জোন স্থাপনের প্রস্তাবনা আসতে পারে। শিল্প পুলিশ জোন প্রতিষ্ঠিত হলে রংপুর ও রাজশাহী দুই বিভাগের শিল্প এলাকাকে নিরাপত্তাবেষ্টনীতে আনা যাবে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিসিএস ৩০তম ব্যাচের ১৮১ পুলিশ সদস্য জুনে তাদের চাকরিজীবনের ১৫ বছরে পদার্পণ করবেন। ৩১ তম ব্যাচের ১৮১ জনের চাকরিকাল ১৪ বছরে পদার্পণ করেছে। তাদের পদোন্নতি হলে বঞ্চিতদের সংখ্যা কমবে এবং কাজেও গতিশীলতা আসবে।

সারাবাংলা/ইউজে/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

উজ্জল জিসান - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর