চট্টগ্রাম: মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ফের পানির নিচে তলিয়ে গেল চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।
শনিবার (২ মে) বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা বৃষ্টি হয়। এতে প্রবর্তক মোড়, রহমতগঞ্জ ও আগ্রাবাদসহ নিচু এলাকাগুলো জলাবদ্ধতায় ডুবে যায়। রাস্তায় পানি জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়, ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। অনেকে কাকভেজা হয়ে পড়েন, আবার গণপরিবহনে গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়াও।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই এই এলাকায় একই চিত্র দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা নিরসনের নানা প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে তেমন কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।’
অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল ও নিয়মিত পরিষ্কারের অভাব জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। এছাড়া পাহাড়ি ঢল ও জোয়ার-ভাটার প্রভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ফের ডুবল চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে মানুষ। ছবি: সারাবাংলা
প্রবর্তক মোড়ে পথচারী জুবায়ের আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, আপনি এখন এসে প্রবর্তক মোড় দেখে যান। এখন আপনি সাঁতার কাটতে পারবেন। আপনি বলেছেন পানি ওঠে না, কিন্তু আমরা পানিতে ভাসছি। আপনি এখন এসে দেখুন।’
এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি আশ্বাস দেন যে কয়েকদিনের মধ্যে কয়েকটি খালের বাঁধ খুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই পানি জমে যাচ্ছে। এর একমাত্র কারণ খালে বাঁধ। বাঁধ সরানোর জন্য আমরা বলেছি। বাঁধ সরে গেলে পানি থাকবে না।’

এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ফের ডুবল চট্টগ্রাম, দুর্ভোগে মানুষ। ছবি: সারাবাংলা
অপরদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এতে সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব আশফিকুন নাহারের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ কমিটি গঠন করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়রকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।