সিলেট: সিলেট-৫ আসনের (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন।
শুক্রবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত দেড়টায় সিলেট নগরের সোবহানীঘাটস্থ ইবনেসিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাবেক এই সংসদ সদস্যের জামাতা ডক্টর এনামুল হক চৌধুরী।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৪টায় কানাইঘাট তালবাড়ি জামিয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে তালবাড়ি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে ধর্মীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যান্সার, কিডনি রোগসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত মে মাসে তিনি প্যারালাইজড হয়ে ইবনেসিনা হাসপাতালে ভর্তি হন। মাঝে কিছুটা উন্নতি ঘটলেও শুক্রবার (১২ জুন) থেকে আবার অবস্থার অবনতি ঘটলে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি এক শোকবাণী দিয়েছেন।
১৯৪৭ সালে জন্ম নেওয়া এই গুণী মানুষটি কেবল রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধারে শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক। সিলেট নগরীর একাধিক মাদরাসা ও কলেজ প্রতিষ্ঠায় তার অসামান্য অবদান রয়েছে।
রাজনৈতিক জীবন:
সংসদীয় রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সম্মানজনক ভোট পান। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ব্যালটের লড়াইয়ে তিনি ভোটে বিজয়ী হন এবং সে সময় রেডিও-টেলিভিশনের প্রাথমিক ফলাফলে তার বিজয় ঘোষিতও হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে একটি কেন্দ্রের স্থগিত ভোট পুনর্নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি নির্বাচিত হননি। অবশেষে, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে তিনি সিলেট-৫ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬—এই পাঁচ বছর ছিল সিলেট-৫ আসনের ইতিহাসের এক অবিসংবাদিত ‘স্বর্ণযুগ’। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
কর্ম জীবন:
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী মিরাবাজার শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া সিলেট নগরীর পাঠানটুলা শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা (যেখানে তিনি দীর্ঘদিন রেক্টর ছিলেন), মেজরটিলার আল-আমীন জামেয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জালালাবাদ ইন্টারন্যাশনাল আলিম মাদ্রাসা এবং সোবহানীঘাটস্থ জালালাবাদ কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি:
মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী কেবল কিতাবি আলেম বা রাজনীতিক নন, তিনি ছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তাও। সিলেটের আধুনিক ও অন্যতম বৃহৎ শপিং কমপ্লেক্স ‘আল-হামরা শপিং সিটি’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। এমন বহু বাণিজ্যিক স্থাপনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি শত শত যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রেখেছেন। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি নিজ জন্মভূমি কানাইঘাটে ‘তালবাড়ী জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদরাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন।