Monday 01 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

উত্তরের সোনালি স্বপ্ন
কেবল কৃষি শ্রমিকদের আয়ই ছাড়াতে পারে ৪০০ কোটি টাকা

রাব্বী হাসান সবুজ ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১ জুন ২০২৬ ০৮:১৩

রংপুর অঞ্চলে শুরু হয়ে বোরো ধান কাটা-মাড়াই মৌসুম। ফাইল ছবি: সারাবাংলা

রংপুর: রংপুর অঞ্চলে বোরো ধানের কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। গত পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে আবাদ। ধানের মৌ মৌ গন্ধে এখন মাতোয়ারা এই অঞ্চলের খেতগুলো। ধানকাটার টানে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও। কারণ, জমির মালিকদের পাশাপাশি ধান কাটা ও মাড়াইয়ে যুক্ত কৃষক-শ্রমিকরাও তাদের শ্রমবাজার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৪৯ হাজার হেক্টর। সে বছর রেকর্ড ৫ লাখ ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এর পর থেকে এই লক্ষ্যমাত্রা আর কমেনি। এবার ৫ লাখ ৩ হাজার হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার হেক্টর জমিতে।

বিজ্ঞাপন

এই ফলনে কৃষকদের পাশাপাশি দারুণ লাভের আশা করছেন কৃষি শ্রমিকরা। ধান কাটা-মাড়াই করেই চলতি মৌসুমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তারা। গত কয়েক মৌসুমে কৃষি শ্রমের মূল্য ৫ থেকে ৬ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিকদের বাড়তি আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে আবাদ, বাড়ছে উৎপাদনের সম্ভাবনা

এ বছর রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলায় বোরো আবাদের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি হয়েছে। কৃষি বিভাগ প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সেই হিসাবে এ অঞ্চলে মোট ২৩ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যা ধানের হিসেবে প্রায় ৩৫ লাখ মেট্রিক টন।

এখন পর্যন্ত মোট আবাদের ৭ শতাংশ জমির ধান কাটা-মাড়াই শেষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের আশা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও ২০ শতাংশ ধান কৃষকদের গোলায় ওঠবে। কৃষকরা জানিয়েছে, হাটবাজারে বিভিন্ন প্রজাতির বোরো ধান প্রতিমণ প্রতি এক হাজার টাকা বা তার কিছু বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

শ্রমিক সংকটের মধ্যেও বাড়ছে আয়ের সম্ভাবনা

এবারও ধান কাটার সময় উপস্থিত হয়েছে শ্রমিক সংকট। দিনমজুরি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিলেও স্বেচ্ছাসেবী কৃষি শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। মিঠাপুকুরের শটিবাড়ির কৃষক আব্দুল হাই, রংপুর সদরের আশরাফুল ইসলাম, গঙ্গচড়ার মানিক মিয়া, পীরগঞ্জের মন্টু মিয়াসহ একাধিক চাষি জানান, জমির মাপ ও পরিশ্রমের ভিত্তিতে মজুরি আরোপ করা হচ্ছে।

তারা জানান, পাঁচ বছর আগে যেখানে ১ একর জমির ধান কাটা-মাড়াইয়ে একহাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হতো, সেখানে এখন এক দোন (২৪ শতক) জমির ধান কাটামাড়াই করতেই খরচ হচ্ছে চার হাজার টাকার ওপরে। হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি একরে ধান কাটা-মাড়াইয়ে কৃষকদের ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে যাচ্ছে।

অঞ্চলভিত্তিক শ্রমিক ও বাজারের চিত্র

কৃষি অফিসের তথ্যমতে, রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বিপুল সংখ্যক কৃষি শ্রমিক রয়েছেন। তারা সাধারণত বোরো ও আমন মৌসুমে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকেন। অন্যান্য সময়ে তারা শহরে রিকশা-ভ্যান চালিয়ে বা অন্য পেশায় জীবন নির্বাহ করেন। বর্তমানে রংপুর জেলায় প্রায় ১০ লাখ, নীলফামারীতে ৫ লাখ, লালমনিরহাটে ৪ লাখ, গাইবান্ধায় ৬ লাখ, কুড়িগ্রামে ৭ লাখ, দিনাজপুরে ১২ লাখ, ঠাকুরগাঁয়ে ৭ লাখ ও পঞ্চগড়ে ৩ লাখ কৃষি শ্রমিক এই খাতে নিয়োজিত রয়েছেন। মজুরি বৃদ্ধিতে তারা স্বাভাবিকভাবেই খুশি।

কৃষকের লাভ ও কৃষি অফিসের মূল্যায়ন

অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সেচ বাবদ কিছু খরচ সাশ্রয় হয়েছে উল্লেখ করে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘এবার অনুকূল আবহাওয়া কৃষকদের জন্য বরাদ্দ কমিয়েছে। স্বাভাবিক ধানের বাজারমূল্য এবং সময়মতো শ্রমিক পাওয়ার চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কৃষকদের লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর