রবিবার ২৪ মার্চ, ২০১৯ ইং , ১০ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৬ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘দেবী’ সিনেমা দেখে কী বলছেন দর্শকরা

অক্টোবর ১৯, ২০১৮ | ৩:৫৫ অপরাহ্ণ

এন্টারটেইনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট ।।

বাংলা সিনেমা নিয়ে দর্শকের আগ্রহ খুব একটা দেখা যায়না। মাঝে মাঝে এমন সময় আসে যখন মানুষ বাংলা সিনেমা নিয়ে আলোচনা করে। দেখার জন্য অধীর আগ্রহে বসে থাকে। ‘দেবী’ ঠিক তেমন একটি সিনেমা হিসেবে আলোচিত হচ্ছে বেশ কয়েকমাস ধরে।

শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) আলোচিত এই সিনেমাটি দেশের ২৯টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটি দেখার জন্য অনেকে দর্শক আগে থেকেই টিকিট কেটে রেখেছেন। আশা করা হচ্ছিল প্রথম শো থেকেই প্রেক্ষাগৃহ কানায় কানায় ভর্তি থাকবে। হলোও তাই। রাজধানীর বলাকা সিনেমা হল সকালের শোতে দর্শকদের ভীড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে দর্শকদের বাড়তি চমক দিতে প্রেক্ষাগৃহে হাজির হন ‘দেবী’ সিনেমার পুরো টিম। সিনেমা শুরুর আগে তারা দর্শকদের সামনে দাঁড়িয়ে আগত দর্শকদের ধন্যবাদ জানান। কিছু সময় সেখানে অবস্থান করে তারা বিদায় নেন।

একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে সানজিদা ইয়াসমিন। বন্ধুদের সঙ্গে তিনি ‘দেবী’ দেখতে এসেছেন। সিনেমা মুক্তির তারিখ ঘোষণার পর থেকেই তিনি উন্মুখ হয়ে ছিলেন সিনেমাটি দেখার জন্য। তার কাছে সবমিলিয়ে সিনেমাটি ভালো লেগেছে। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে সিনেমাটি বেশ ভালো লেগেছে। উপন্যাসের সবটাই সিনেমায় থাকেনা, এটা মাথায় নিয়েই সিনেমা দেখতে এসেছি। সিনেমার মেকিং ভালো ছিল। সবাই যার যার জায়গা থেকে ভালো অভিনয় করেছেন। তবে শবনময় ফারিয়া আরও ভালো করতে পারতেন। তার অভিনয়ের মধ্যে কোন সিরিয়াস হতে দেখিনি। আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি নাটকের অভিনয় থেকে বের হতে পারেননি। সেজন্য হয়ত সময় লাগবে।’

দশমীর দিনে স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে সিনেমা দেখতে এসেছেন অমিত রায়। তার কাছে প্রশ্ন ছিল, দশমীর দিনে মন্ডপে না গিয়ে কেনো সিনেমা হলে? তিনি মুখে হাসি রেখে উত্তর দেন, ‘আমি হুমায়ূন আহমেদের বড় একজন ভক্ত। আমার স্ত্রীও তার ভক্ত। তার উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটি দেখার আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকে দেখতে আসা। সকালে সিনেমা দেখে বিকালে মন্ডপে ঘুরব, তারপর দেবী বিসর্জনে অংশ নেব।’

কেমন লাগলো সিনেমা? অমিত রায়ের স্ত্রী অনিমা রায় স্বামীর মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বলেন, ‘আমরা তো ফিল্ম ক্রিটিক না। সমালোচনা করতে পারবনা। আমার কাছে খারাপ লাগেনি। জয়া আহসান, চঞ্চল চৌধুরী আমার প্রচন্ড রকমের প্রিয় অভিনয়শিল্পী। বরাবরের মতো তারা ভালো অভিনয় করেছেন। ভৌতিক আবহে কিছু ভয়ও পেয়ে গিয়েছিলাম।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া রাসেল মাহমুদ মনে করেন সিনেমাটি হতাশ করেছে। তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ ছাড়া তার গল্প অন্যকেউ সেভাবে ফুঁটিয়ে তুলতে পারেনা। তিনি যখন তার গল্পে সিনেমা বা নাটক বানিয়েছেন সেগুলো জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছে। দৃশ্যের ধারাবাহিকতাও বজায় থাকত। আমি যতটুকু জানি এটি পরিচালকের প্রথম ছবি। প্রথম ছবিতেই শতভাগ শুদ্ধ ছবি আশাকরা বোকামি। আমি সেটাও আশা করছিনা। আমি চাই সিনেমাটি সবাই দেখতে আসুক।’

বহুল আলোচিত সিনেমাটি  কেমন লেগেছে ? শো শেষে এরকম একটি প্রশ্ন রাখা হয় দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার সহ সম্পাদক রেজা নওফল হায়দারের কাছে। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি অনেক আগে উপন্যাসটি পড়েছি। মিসির আলি অসম্ভব যুক্তিবাদি একজন মানুষ। যে প্রত্যাশা নিয়ে সিনেমাটি দেখতে আসি সেটা পূরণ হয়নি। তবে জয়া আহসান অসাধারণ অভিনয় করেছেন। কিন্তু তার চারপাশে যারা সহশিল্পী ছিলেন তারা সেভাবে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি।’

অন্যদিকে সিনেমা দেখতে আসা অন্য দর্শকরা মনে করছেন ‘দেবী’র মতো আরও সিনেমা নিয়মিত নির্মাণ হওয়া উচিত। তাতে করে হলবিমুখ মানুষ আবার হলমুখী হবে।

‘দেবী’ পরিচালনা করেছেন অনম বিশ্বাস। প্রয়াত কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী, জয়া আহসান, শবনম ফারিয়া, অনিমেষ আইচ এবং একটি ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেন ইরেশ জাকের। সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সিনেমাটিসহ প্রযোজনা করেছে জয়া আহসানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সি-তে সিনেমা।

সারাবাংলা/আরএসও/পিএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন