বৃহস্পতিবার ২১ মার্চ, ২০১৯ ইং , ৭ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ রজব, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে উদীচীর বর্ণাঢ্য সম্মেলন

মার্চ ১৪, ২০১৯ | ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধনের পর আলোচনা সভা, গণসঙ্গীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবে মেতে উঠেন উদীচীর শিল্পীরা।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের অষ্টাদশ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ও মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী কাজী নূরুল আবছার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন।

বিজ্ঞাপন

নগরীর এনায়েত বাজার মহিলা কলেজের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী বক্তব্যে কাজী নূরুল আবছার উদীচীর কাছে সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ এবং যেকোনো ধরনের অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে ক্ষুরধার ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি নিছক একজন মুক্তিযোদ্ধা নয়। আমি সেই মুক্তিযোদ্ধা, যে মুক্তিযুদ্ধের সময় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো কুখ্যাত রাজাকারকে হত্যার জন্য আক্রমণ করেছিলাম। স্বাধীনতার পর দীর্ঘসময় ধরে এই রাজাকাররা রাজনীতি করে গেছে, মন্ত্রী-এমপি হয়েছে, এটা আমাদের কাছে বড় গ্লানির বিষয় ছিল। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে গ্লানি থেকে মুক্ত হওয়ার পথ দেখিয়েছেন।’

নূরুল আবছার বলেন, ‘উদীচী গানের মধ্য দিয়ে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে এবং এই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। উদীচী জন্মলগ্ন থেকেই একটি বিপ্লবী সংগঠন। এর রাজনৈতিক চেতনা অত্যন্ত প্রখর। উদীচীর কাছ থেকে আমরা ক্ষুরধার ভূমিকা প্রত্যাশা করি। সাম্প্রদায়িকতা-মৌলবাদ এবং রাষ্ট্র ও সমাজে শাসকের যে কোনো অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে উদীচী যেন ক্ষুরধার ভূমিকা পালন করে। সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে উদীচী যেন সব নিপীড়ন-অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষকে জাগিয়ে তোলে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. অনুপম সেন বলেন, ‘মানুষকে জাগাতে হলে মনোজগৎকে জাগাতে হবে। আর তা সম্ভব একমাত্র সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। মানুষের কাজ, জাগতিক সকল কর্মকাণ্ড যদি মানবকল্যাণমুখী না হয়, আমরা যদি আদর্শচ্যুত হই তাহলে পার্থিব জগৎ অর্থহীন হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উদীচী প্রতিষ্ঠাকাল থেকে মানুষের মনোজগৎকে জাগিয়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছে। সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় ‍উদীচীর নিরন্তর যে ভূমিকা, সেটা খুব বেশি সংগঠনের নেই। গানের মধ্য দিয়ে যে রাজনীতি, সমাজের অসঙ্গতি, শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা যায়, সেটা উদীচী করে দেখাচ্ছে। উদীচী যুগে যুগে এভাবেই মানুষকে পথ দেখিয়ে যাবে, এটা আমার প্রত্যাশা।’

জাতীয় ও দলীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনের সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কাজী নূরুল আবছার এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদে সভাপতি শহীদ জায়া বেগম মুশতারি শফি। এরপর বের হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। ঢোলের তালে নেচে-গেয়ে উদীচীর শিল্পীকর্মীরা র‌্যালিতে অংশ নেন। র‌্যালিটি শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর আবারও সম্মেলনস্থলে ফিরে আসে।

এরপর শহীদ জায়া বেগম মুশতারি শফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল মনসুর, নাট্যজন সুচরিত দাশ খোকন, সম্মিলিত আবৃত্তি জোটের সভাপতি অঞ্চল চৌধুরী, সম্মিলিত আবৃত্তি পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক রাশেদ হাসান, গণজাগরণ মঞ্চ চট্টগ্রামের সমন্বয়ক শরীফ চৌহান, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, সম্মিলিত সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি দীপেন চৌধুরী এবং নৃত্যশিল্পী শারমিন হাসান।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপিকা শীলা দাশগুপ্তা। এরপর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গীতি আলেখ্য ‘ইতিহাসের কথা কও’ মঞ্চস্থ হয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী কাউন্সিল অধিবেশন হবে।

সারাবাংলা/আরডি/এমআই

চট্টগ্রামে উদীচীর বর্ণাঢ্য সম্মেলন
বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন