বুধবার ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

কলকাতার মঞ্চে নান্দীমুখ’র ‘আমার আমি’

ডিসেম্বর ৭, ২০১৯ | ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

এন্টারটেইনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট

আঠারো শ’ শতকের শেষভাগ। সে যুগে নারীদের আলাদা কোনো অস্তিত্ব স্বীকার করত না পরিবার, সমাজ, এমনকি দেশের শাসককূলও। সে সময়ে দাঁড়িয়ে নিজের অভিনয় প্রতিভার জোরে এক নারী নিজেকে সসম্মানে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। শুধু অভিনয় জগতে নয়, সংস্কৃতমনস্ক অভিজাত লোকেদের সভাতেও যেখানে আলোচিত হতো বাংলা, ইংরেজি সাহিত্য। সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেসব আলোচনায় যোগ দিতেন এই অসামান্যা প্রতিভাময়ী সুন্দরী নারী, যদিও তার প্রথাগত শিক্ষা ছিল সামান্যই।

বিজ্ঞাপন

এমনই এক আশ্চর্য প্রতিভার নাম নটী বিনোদিনী। ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে জন্ম নেওয়া এই প্রবাদ প্রতিম অভিনেত্রী মাত্র ১২ বছর বয়সে তৎকালীন গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারে ছোট্ট ভূমিকায় অভিনয়ের মাধ্যমে তার অভিনয় জীবন শুরু করেন। নাচ ও গানে সমানতালে পারদর্শী বিনোদিনী খুব তাড়াতাড়ি অভিনয়ে দক্ষ হয়ে ওঠেন এবং একজন প্রথম শ্রেণির অভিনেত্রী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন । ১৮৭৪ থেকে টানা এক যুগ তিনি অভিনয় করেছিলেন । ১৮৮৭ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি তিনি শেষবার অভিনয় করেন। এর আগে পর্যন্ত ৫০টি নাটকে তিনি ৬০টিরও বেশি চরিত্রে অভিনয় করেন।

বিজ্ঞাপন

তার সময়ে বাংলা রঙ্গজগতও রূপান্তরিত হয়েছিল মুক্তমঞ্চের যাত্রা ঢঙের অভিনয় থেকে মঞ্চে পর্দাসহ ইউরোপিয়ান বৈশিষ্ট্যের অভিনয়ের দিকে। বিনোদিনীই ভারতীয় বা দেশজ সাজসজ্জার সঙ্গে ইউরোপীয় সাজসজ্জার সংমিশ্রণ করেন, যদিও তার সামনে কোনো রোল-মডেল ছিল না। Moon of The Star, Flower of the Native Stage এইসব বিশেষণে তাকে ভূষিত করা হয়েছিল। তবুও মাত্র ২৪ বছর বয়সে অভিনয় জীবনের মধ্যগগনে পৌঁছে তাকে ছাড়তে হয় ভালবাসার পেশা ও জীবন।

বিনোদিনী তার আত্মজীবনী ‘আমার কথা’য় লিখেছেন, ‘থিয়েটার ভালোবাসিতাম, তাই কার্য করিতাম, কিন্তু ছলনার আঘাত ভুলিতে পারি নাই। তাই অবসর বুঝিয়া লইলাম।’

বিনোদিনী— থিয়েটারের জন্য এই আত্মত্যাগী মহীয়সীর আত্মজীবনী নিয়ে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় নাট্যদল ‘নান্দীমুখ’ মঞ্চায়িত করছে তাদের দর্শক নন্দিত নাটক ‘আমার আমি’। অভিনেত্রী দীপ্তা রক্ষিতের একক অভিনীত এই নাটকটির রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন অসিম দাশ। এ পর্যন্ত ঢাকায় তিনটি ও চট্টগ্রামে ১১টিসহ মোট ১৪টি মঞ্চায়িত এই নাটকটি এবার মঞ্চায়িত হচ্ছে পশ্চিমবাংলার দুটি উৎসবে।

আগামীকাল (৮ ডিসেম্বর) চাকদহ নাট্যজনের আমন্ত্রণে শ্রেষ্ঠ নাটকের উৎসব ২০১৯-এ। এটি আয়োজিত হচ্ছে সম্প্রীতি মঞ্চ চাকদহে।

দ্বিতীয় প্রদর্শনী ১০ ডিসেম্বর রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের আমন্ত্রণে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নটী বিনোদিনী মঞ্চে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী এবং সম্মানিত নাট্যজনেরা।

এই উৎসব ও ‘আমার আমি’ নাটক নিয়ে নান্দীমুখের দলপ্রধান অভিজিৎ সেনগুপ্ত বলেন, ‘আমরা পশ্চিমবাংলায় দুটি উৎসবে যাচ্ছি। একটি হচ্ছে চাকদহ ও অন্যটি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। দুটি প্রদর্শনীতেই আমরা বাংলা প্রবাদ প্রতিম অভিনেত্রী বিনোদিনী দাসির জীবনী অবলম্বনে আমাদের প্রশংসিত প্রযোজনা ‘আমার আমি’ মঞ্চস্থ করব। বিনোদিনী হচ্ছেন বাংলার প্রবাদ প্রতিম অভিনেত্রী। তৎকালীন পুরুষ শাসিত সমাজ দ্বারা বিনোদিনী বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন। গিরীশ ঘোষ, গুরমুখ রায়সহ তৎকালীন সবাই থিয়েটারের জন্য বিনোদিনীকে ব্যবহার করেছিলেন। ‘আমার আমি’ নাটকে তার এই কষ্টের কথা, তার আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা যারা প্রসেনিয়াম থিয়েটার করছি, তারা সবাই ভুলে গেছি থিয়েটারের জন্য এই মহান শিল্পীর আত্মত্যাগের কথা। সেদিন তিনি যদি এগিয়ে না আসতেন, তাহলে স্টার থিয়েটার নামে হলটির সৃষ্টি হতো না। আর সৃষ্টি হতো না বাংলা নাটকের নতুন পথ-পরিক্রমা।’

উল্লেখ্য ‘আমার আমি’ নাটকটি এর আগেও পশ্চিমবাংলার বহরমপুরে প্রান্তিক নাট্য উৎসবে মঞ্চস্থ হয়েছিল।

সারাবাংলা/এএসজি/এটি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন