বিজ্ঞাপন

বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে আলোর মিছিল, বধ্যভূমি সংরক্ষণের তাগিদ

December 14, 2019 | 9:31 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: একাত্তরে মুক্তিকামী বাঙালিদের নির্বিচারে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখা বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণের জোরালো তাগিদ এসেছে চট্টগ্রামে বুদ্ধিজীবী দিবসে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী বধ্যভূমিতে আলো জ্বালিয়ে বর্বর পাকিস্তানি ও তাদের দোসরদের হাতে নির্মম হত্যার শিকার এদেশের মেধাবী সন্তানদের স্মরণ করা হয়। প্রতিবছরের মতো ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন, উদীচী ও খেলাঘর যৌথভাবে এই কর্মসূচি পালন করেছে। এছাড়া প্রমা আবৃত্তি সংগঠন চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার অভিমুখে আলোর মিছিল করেছে।

পাহাড়তলীর বধ্যভূমিতে প্রগতিশীল গণসংগঠনগুলোর সম্মিলিত পরিবেশনা ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের মধ্য দিয়ে জ্বলে ওঠে হাজারো প্রদীপ। শিশু-কিশোর থেকে বিভিন্ন বয়সী নারীপুরুষ সবার হাতে ছিল জ্বলন্ত মোমবাতি।

বিজ্ঞাপন

এর আগে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ২৭১টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ করার জন্য দেড় বছর আগে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় প্রকল্প নিয়েছিল। সেই প্রকল্প এখনও আলোর মুখ দেখেনি। এখন পর্যন্ত ভূমি পুনরুদ্ধার বা চিহ্নিত হয়নি। এটা দুঃখজনক। পাকবাহিনী আর এ দেশীয় রাজাকার-আলবদরদের গণহত্যার চিহ্নগুলো সংরক্ষণে এই উদাসীনতা কেন? আমরা জানতে চাই।

বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে আলোর মিছিল, বধ্যভূমি সংরক্ষণের তাগিদ

বক্তারা আরও বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি ছিল গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ। কিন্তু বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও তারা পূর্ববর্তী সরকারের দেখানো পথেই হাঁটছে। সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সাথে আতাঁত করছে। মানুষের গণতান্ত্রিক, নাগরিক ও মানবিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে এবং মুক্তিবুদ্ধির চর্চার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক দেশ গঠনের সংগ্রামে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সংগঠক ডা. চন্দন দাশের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তৃতা করেন খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক রূপক চৌধুরী, জেলা যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল শিকদার, উদীচী সংগঠক জয় সেন, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এ্যানি সেন।

এদিকে শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রমা। এতে অতিথি হিসেবে ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ড. অনুপম সেন, শহীদ জায়া বেগম মুশতারি শফী ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান।

বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে আলোর মিছিল, বধ্যভূমি সংরক্ষণের তাগিদ

কবিকন্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি ওমর কায়সার, সেলিনা শেলী, কামরুল হাসান বাদল, মনিরুল মনির ও কোলকাতার মেঘ বসু। দলীয় আবৃত্তিতে অংশ নেয় বোধন আবৃত্তি পরিষদ ও চট্টগ্রাম আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র। আমন্ত্রিত শিল্পীরা একক আবৃত্তিতেও অংশ নেন।

সন্ধ্যায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট থেকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে শুরু হয় আলোর মিছিল। প্রজ্বলিত মোমবাতি হতে সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন মিছিলে।

এদিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ চট্টগ্রামে বসবাসরত ৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা দিয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি) নুরে আলম মিনা।

এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন ক্যাম্পাসের বুদ্ধিজীবী চত্বরে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করেছে। ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান’ নামে একটি সংগঠন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মোমবাতি প্রজ্বলন করে।

সারাবাংলা/আরডি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন