শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬, ৪ রজব ১৪৪১

বিজ্ঞাপন

কোরিওগ্রাফিতে পুরুষ নৃত্যশিল্পীরাই এগিয়ে: আনিসুল ইসলাম হিরু

জানুয়ারি ১, ২০২০ | ৯:০০ পূর্বাহ্ণ

সাক্ষাৎকার: আশীষ সেনগুপ্ত

একাধারে একজন নৃত্যশিল্পী, একজন সোস্যাল অ্যাক্টিভিস্ট, আবার একজন নৃত্যগুরু। সম্প্রতি সমুদ্রকন্যা কক্সবাজারের সৈকতে অনুষ্ঠিত দেশের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসব ‘ওশান ডান্স ফেস্টিভ্যাল-২০১৯’র আয়োজক নৃত্যশিল্পীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ডান্স অ্যালায়েন্স, এশিয়া প্যাসিফিকের (ডব্লিউডিএ-এপি) বাংলাদেশ শাখা ‘নৃত্যযোগ’র সভাপতি তিনি। নাচই তার ধ্যান-জ্ঞান। তার যাপিতজীবন শুধু নাচকে ঘিরেই। তিনি বাংলাদেশের সর্বজন প্রিয় নৃত্যশিল্পী, নৃত্য সংগঠক আনিসুল ইসলাম হিরু। দেশের অন্যতম নৃত্য শিক্ষাকেন্দ্র ‘সৃষ্টি কালচারাল সেন্টার’র প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। নাচকে ধারণ করে দেশের ভাবমূর্তিকে প্রতিনিয়তই প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন বিদেশের মাটিতেও।

বিজ্ঞাপন

কথা হয় নৃত্য অন্তঃপ্রাণ এই মানুষটির সঙ্গে। আশীষ সেনগুপ্ত'র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে
তিনি জানান তার নৃত্যগুরু হয়ে ওঠার গল্প, নৃত্য নিয়ে আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা।

• নৃত্যে সম্পৃক্ততা

বিজ্ঞাপন

নৃত্যশিল্পী হব, কখনো ভাবিনি। হয়তো আমার অবচেতন মনে বাসনা ছিল। কিন্তু সেটা কখনো প্রকাশ করতে পারিনি। শিল্পী হতে গেলে, সেটা যে মাধ্যমেই হোক, অনেক ডেডিকেশান, কমিটমেন্ট থাকতে হয়। প্রতিটি কলাকেই মনে মনে ধারণ করতে হয়। নৃত্যশিল্পটা পুরোপুরি একটা গুরুমুখী বিদ্যা। সরাসরি গুরুর তত্ত্বাবধান ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম থেকেই এই শিক্ষা অর্জন সম্ভব নয়। আমি ছোটবেলায় নাচ শিখিনি, কখনো করিওনি। যখন নটরডেম কলেজে পড়ি, তখন ক্লাসমেট ছিল সোহেল রহমান, এখন বাংলাদেশের প্রথিতযশা নৃত্যশিল্পী। আরেক বন্ধু অনুপ কুমার দাশ। সেও একজন ভালো নাচিয়ে। বর্তমানে আমেরিকায় থাকে। ওদের সঙ্গে চলাফেরা করতে করতে একসময় আমার মধ্যেও নাচের আগ্রহ তৈরি হয়। এটা সত্য যে বন্ধুত্বটাকে আরও গভীর করতে, সেটা টিকিয়ে রাখতেই আমার নাচ শেখা। বলা যায় ওদের দেখেই আমার নাচের প্রতি আগ্রহ। এইচএসসি পাস করার পর আমরা একেকজন একেক বিভাগে ভর্তি হয়ে গেলাম। আমাদের দেখা-সাক্ষাৎ কমে গেল। এই দূরত্বটা আমরা মেনে নিতে পারছিলাম না। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম, আমরা একসঙ্গে নাচ শিখব এবং সেটা একই স্কুলে। ভর্তি হলাম বাফাতে। আমি সৌভাগ্যবান, সোহেলই হচ্ছে আমার প্রথম নৃত্যগুরু। ওর মতো দাপুটে নৃত্যশিল্পী বাংলাদেশে আর কেউ আছে বলে আমি এখনো মনে করি না।

• নৃত্যশিল্পী হওয়া

আমাদের ওই সময়টায় টিভি চ্যানেল বলতে ছিল একটাই— বিটিভি। আমার মধ্যেও তখন চরম আগ্রহ, কবে আমি বিটিভিতে নাচ করব— সে দলীয় হোক বা ছোট্ট একটু অংশ। চেহারা দেখা যাবে, এটাই বিশাল প্রাপ্তি। বাফাতে শেখা শুরুর পরপরই সে সুযোগ পেয়ে গেলাম। বাফাতে আমার শিক্ষক ছিলেন সদ্যপ্রয়াত রাহিজা খানম ঝুনু। সেখানে নাচ শিখতে গিয়ে একটা নতুন পরিবার পেলাম। ওখানে এতটাই আন্তরিকতা ছিল যে আমি সপ্তাহের বাকি পাঁচটা দিন অপেক্ষায় থাকতাম যে কবে শুক্র ও শনিবার আসবে আর আমি বাফায় যাবো। এই ভালোবাসাটুকুই হয়তো আমার শিল্পী হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এরপর বাফাতে যখন একটু সিনিয়র হলাম, তখন বাফা থেকে আমার বিদেশে শো করার প্রথম সুযোগ এলো। সেটা কলকাতায়, রবীন্দ্রনাথের ১২৫তম জন্মজয়ন্তীতে। আমরা সেখানে ‘চিত্রাঙ্গদা’ পরিবেশন করলাম। আমাদের সঙ্গে ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় কলিম শরাফী, সাদি মুহম্মদ, হামিদা হক, মঞ্জুলা আপা সহ আরও অনেকেই। প্রায় ৪০ জনের টিম। ওই স্মৃতি আমার সারাজীবনের।

• পারিবারিক সহযোগিতা

আমি প্রথম ২ থেকে ৩ বছর বাসায় জানাইনি যে আমি নাচ শিখছি। বললেও তেমন কিছু হতো না। কারণ লেখাপড়া ঠিক রেখে অন্য যাই করি না কেন, সেটা অসামাজিক বা ক্ষতিকর না হলে তাতে পরিবার কোনো আপত্তি করত না।

• তৎকালীন প্রেক্ষাপট

আমরা যে সময়টাতে নাচের প্রতি অনুরক্ত হই, সে সময়টা ছেলেরা নৃত্যশিল্পী— এই ভাবনাটাই ছিল না। তখন মানসিকতা ছিল সীমাবদ্ধ। এখন যেমন স্যাটেলাইটের কল্যাণে মা-বাবারা তাদের ছেলেদের নাচে দিতে আগ্রহী হচ্ছেন, তখন সেটা ছিল না। ভাবনাটা এমন ছিল, ছেলেরা সবাই মেয়ে সেজেই নাচবে। আমাকেও বহুবছর এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করত, তুমি কি শাড়ি পরে নাচ? এখন অবশ্য এই সমস্যাটা আর নেই। ছেলেদের নাচ করাটা অনেকেই স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করছে। এখনকার পুরুষ নৃত্যশল্পীরা বেশ দাপটের সঙ্গেই নাচ করছে। মজার একটা বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে বাংলাদেশে যে ক’জন নৃত্যশিল্পী ভালো কোরিওগ্রাফি করছে, তাদের অধিকাংশই কিন্তু পুরুষ নৃত্যশিল্পী।

• ভরতনাট্যমে

সবাই আমাকে ভরতনাট্যম শিল্পী হিসাবে চিনলেও আমি ছিলাম মনিপুরী নৃত্যশিল্পী। এই উপমহাদেশের একজন মনিপুরী নৃত্যগুরু ছিলেন শান্তিবালা সিনহা। উনি ছিলেন গুরু বিপিন সিংহের শিষ্যা। আমি তার কাছে দেড় বছর মনিপুরী নৃত্যে তালিম নিই। উনি কানাডায় চলে গেলেন। আমার আর মনিপুরী নৃত্যে এগুনো হলো না।

• নৃত্যগুরু

ইকোনোমিক্সে অনার্স শেষ করার পর আমার এমন একটা সময় গিয়েছিল, যখন আমি মানসিকভাবে ভীষণ টানাপোড়েনের মধ্যে ছিলাম। আর তখনই আমি ভারতে একটা স্কলারশিপ পেয়ে গেলাম, আমি সেটা একদম ছোঁ মেরেই নিয়ে নিলাম। সেই সময়টাতে আমি চাচ্ছিলাম দেশ ছেড়ে চলে যেতে। ইন্ডিয়াতে গিয়ে প্রথমে আমি বরোদা ইউনিভার্সিটিতে গুরু সিভি চন্দ্রশেখরের কাছে নাচ শেখা শুরু করলাম। কিন্তু ওখানকার আবহাওয়ায় নিজেকে সেট করতে পারছিলাম না। পাশাপাশি আবার ইউনিভার্সিটিতে নতুন করে পড়াশুনা শুরু করতে মন চাচ্ছিল না। দেশে ইউনিভার্সিটিতে প্রায় ছয় বছর পার করে অনার্স শেষ করেছিলাম। আবার আরেকটা ডিগ্রির জন্য নতুন করে পড়ালেখা শুরু করার মতো ধৈর্য আমার ছিল না। আমি একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম। সেখানে গুরু হিসাবে পেলাম ‘পদ্মশ্রী লীলা স্যামসন’কে। তাকে গুরু হিসেবে পাওয়াটা ছিল আমার জন্য অতি সৌভাগ্যের। উনার কাছে শুধু নাচই শিখিনি, আজ পর্যন্ত জীবনে যা কিছু করতে পেরেছি তার সবটুকুই উনার কাছ থেকে শেখা। জীবনকে যাপন কিভাবে করতে হয়, আমাকে তিনি হাতে ধরেই শিখিয়েছেন। আগেই বলেছি নাচ হচ্ছে পুরোপুরি গুরুমুখী বিদ্যা। গুরু হিসাবে উনি কোথাও কার্পণ্য করেননি। আমার পথ চলার দরজাটা খুলে দিয়েছেন উনিই।

• এরপর দেশে ফিরে

৯৩-তে দিল্লি থেকে কোর্স শেষ করে যখন ঢাকায় এলাম, তখন বেশ কিছুদিন নাচ শিখিয়ে দিন কাটাতাম। আর ওই সময়টাতে আমাকে বেশ কষ্ট করেই চলতে হয়েছে। আমার বাবা অনেক সম্পত্তি রেখে গিয়েছিলেন, কিন্তু নগদ জমানো কোনো টাকা আমাদের ছিল না। যার ফলে বেশ অর্থ কষ্টেই দিনানিপাত করতে হয়েছে। সেই সময়টাতে আমার এক জাপানিজ বন্ধু আমাকে জাপানে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলো। সেখানে কিছুদিন নাচের অনুষ্ঠান করলাম, নাচ শেখালাম। কিন্তু কয়েকটাদিন যাওয়ার পরই আমার মনে হলো, যে পরিমাণ উপার্জন আমি করছি, সেটা একেবারেই পর্যাপ্ত নয়। জাপান অনেক ব্যয়বহুল দেশ। আমি তখন সাধারণ কাজ, যাকে বলে অড জব, বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, কন্সট্রাকশন, লন্ড্রিতে কাজ করেছি। সেই ইনকাম দিয়ে আমি নাচের জন্য কস্টিউম কিনতাম, বিভিন্ন মিউজিকের রেকর্ড করাতাম।

জাপান থেকে ফিরে আসার পর আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় নাট্যব্যাক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার আমাকে ভিয়েতনামে একটা স্কলারশিপ ব্যবস্থা করে দিলেন। আমি গেলাম ইউরোপ। সেখানে মডার্ন ডান্সের ওপরে একটা কোর্স করলাম। পাশাপাশি ব্যালে, হিপহপ, কাউবয়সহ অনেকগুলো মডার্ন ডান্স ফর্ম শিখলাম। ইউরোপ যাওয়ার আগে বাংলাদেশের জার্মান কালচারাল সেন্টারে একটা ওয়ার্কশপ করেছিলাম। তখন সেখানে ডিরেক্টর ছিলেন স্লেশনার। উনি আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন। একদিন আমাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি কি নাচ নিয়ে আরও কিছু ভাবছো?’ আমি আমার স্বপ্নের কথা বললাম। উনি বললেন, ‘তুমি যদি মডার্ন ডান্স নিয়ে আরও কিছু শিখতে চাও, তাহলে আমি তোমাকে জার্মানিতে একটা স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে দিতে পারি।’ আমি তো মহাখুশি। সম্মতি দিলাম। যেদিন আমি অস্ট্রিয়াতে যাচ্ছি, সেদিনই সকালে উনি আমায় ফোন করে জানালেন, জার্মানিতে আমার স্কলারশিপটা হয়ে গেছে। আমাকে তখনই উনাদের অফিসে গিয়ে কাগজপত্র সাইন করে দিয়ে আসতে হবে। আমিও দেরি না করে ওনাদের অফিসে গিয়ে সাইন করে এয়ারপোর্ট গেলাম অস্ট্রিয়ার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট ধরতে। অস্ট্রিয়া থেকে ফিরে পরের বছরই জার্মানি গেলাম কোর্সটা করতে। এই কোর্সটাই আমার জীবন বদলে দিলো। কারণ ওখান থেকে আসার পর আমাকে আর কখনোই পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। আমি যা কিছু শিখেছি, সেটাকে পুরোপুরি কাজে লাগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি এখনো।

• ‘সৃষ্টি’- নিজের নৃত্য সংগঠন

‘সৃষ্টি’র সৃষ্টি ১৯৯৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। আমার ভরতনাট্যমের একক একটা অনুষ্ঠান দিয়ে। এখানে কৃতজ্ঞচিত্তে একজনের কথা বলতে চাই— তিনি আমাদের নাচের জগতের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব লুবনা মারিয়াম। তার অনেক সহযোগিতা ছিল। তিনি এবং তার বোন ডা. নায়লা আপা আমার অনুষ্ঠানের ব্যাপারে বিভিন্ন জায়গায় কথা বলে পৃষ্ঠপোষকতার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানটা ছিল শিল্পকলা একাডেমিতে। সেখানে হল বুকিং দিতে গিয়ে মনে হলো, আমার যদি নাচের একটা স্কুল বা সংগঠন থাকে তাহলে ভালো হয়। তখন ‘সৃষ্টি’ নাম দিয়ে আমি হল বুকিং দিই। নামটা দিয়েছিলেন বাফার একজন অগ্রজ মতিন ভাই। উনি সাপ্তাহিক বিচিত্রায় কাজ করতেন। সেদিন তার দেওয়া নামটা দিয়েই যে যাত্রা শুরু হল, এ বছর সে যাত্রার ২৫ বছর পূর্ণ হলো। এ উপলক্ষে আমরা বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছি।

• গুরু পরম্পরা

আমরা ভারতে যে পদ্ধতিতে শিখেছি, সেটা ছিল গুরু-শিষ্য পরম্পরা। এই পদ্ধতিটা অনেককাল আগ থেকেই, যা এখনো প্রচলিত। যদিও আমাদের এখানে এটা সেই অর্থে আমরা পাইনি। আমরা ডান্স টিচারই বলতাম। টিচারদের আপা স্যার বা ভাই বলে ডাকতাম। তবে এখন সময়ের সাথে সাথে অনেককিছু পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে অনেকেই আছেন যারা গুরুর পর্যায়ে গেছেন। আমি আমার গুরুকে কখনো গুরু বলতাম না। বলতাম ‘আক্কা’। এটা সাউথ ইন্ডিয়ান একটি শব্দ। বাংলায় যার অর্থ ‘দিদি’ বা ‘বোন’। এখনো তাকে তাই বলেই ডাকি।

বাংলাদেশে যদিও আমরা গুরু-শিষ্য পরম্পরা বলে থাকি। তবে সেটাকে পুরোপুরি বলা যায় না। আমরা যখন স্কলারশিপে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে সপ্তাহে ছয় দিনই ক্লাস করতাম এবং সেই ক্লাসে সবকিছু থাকত— নাচ, এক্সারসাইজ, ইয়োগা, এমনকি গান আর তবলাও শেখানো হতো। পুরো ব্যাপারটা নিয়েই একজন পূর্ণাঙ্গ গুরু হয়।

• আমাদের নৃত্যের বর্তমান প্রেক্ষাপট

আমাদের এখানে যেটা হয়, সেটা হলো অধিকাংশ শিক্ষার্থীই নাচটাকে পার্টটাইম হিসেবে নিয়েছে। স্কুল-কলেজ বা চাকরির পর সপ্তাহে একদিন বা দু’দিন নাচ শিখতে বা প্র্যাকটিস করতে আসে। সঠিকভাবে নাচ শেখার জন্য এটা একবারেই সঠিক পদ্ধতি নয়। তারপরও এটা অনস্বীকার্য, আমাদের দেশের অনেক প্রতিভাবান ছেলেমেয়ে রয়েছে। বলা যায় অনেকেই একেবারে ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা। ওদের কোনো কিছু একবার দেখালেই তারা অতি দ্রুত তা রপ্ত করতে পারে। আমি এটাকে সাধুবাদ দেই।

আবার অন্যদিকটাও আছে। কিছু ছেলেমেয়েরা আসে, যারা অতি দ্রুত শিখে টিভিতে বা মঞ্চে নাচ করতে চায়, তারকা খ্যাতি পেতে চায়। নাম কামানোতে যেন ইঁদুর দৌড়ে দৌড়াচ্ছে। এটাকে আমি কখনোই সমর্থন দিতে পারছি না। আমি মনে করি, একটা মানুষ এক জীবনে এতকিছু করতে পারে না। যারা একসাথে অনেকগুলো মাধ্যমেই সফলতা পাওয়ার চেষ্টা করেছে, দিনশেষে তাদের কেউ টিকে থাকতে পারে না। এ বিষয়ে আমার একটাই বলার, আমাদের এখানের কিছু ছেলেমেয়েরা যেমন প্রতিভাবান, তেমনি আবার কিছু ছেলেমেয়েরা খ্যাতি বা অর্থের লোভে পতিত হয়ে গেছে। অর্থ সবারই প্রয়োজন। আমারও ছিল। যে টাকাটা পেতাম সেটা পর্যাপ্ত ছিল না। অনেক কষ্ট করে শিখতে হয়েছে। দিনের পর দিন শুধু সবজি আর ডাল দিয়ে ভাত খেয়ে নাচ শিখতে যেতাম। প্রায় চার বছর ধরে প্রতিদিন এই একই রুটিনে। কারণ আমরা যেখানে থাকতাম, সেটা ভেজিটেরিয়ান হোস্টেল ছিল। মাছ মাংস সেখানে নিষিদ্ধ ছিল। সেদিনের সেই কষ্টটা মেনে নিয়েছিলাম বলেই আজ সুখ বা স্বাচ্ছন্দ্য করতে পারছি। এটা সত্য যে কষ্ট সইতে না পারলে শিল্পী হিসেবে কখনোই সাফল্য আসবে না।

 

• সেকাল-একাল

আমরা যখন নাচ করতাম, তখন একটাই চ্যানেল— বিটিভি। যার ফলে প্রচারের ক্ষেত্রটা সীমিত, তাই প্রতিযোগিতা ছিল অনেক বেশি মাত্রায় শিল্পিত। কে কার চেয়ে ভালো করতে পারবে, এই সুস্থ প্রতিযোগিতাটা ছিল অতি মাত্রায়। সে সময়টাতে ক্ষেত্র কম হলেও সুন্দর একটা সোনালি সময় আমরা পেয়েছিলাম। ওই কমের মধ্যেও আমাদের আত্মতৃপ্তি ছিল।

এরপর নাচের একটা রেনেসাঁ হয়ে গেছে। গ্রামে, গঞ্জে, মফস্বল শহরে, এমনকি তৃণমূল পর্যায়েও নাচের একটা বিপ্লব ঘটেছে। নৃত্যশিল্পী ছেলে না মেয়ে, সে ভেদাভেদটাও আর নেই। রক্ষণশীলতার ঘোরটোপে নাচ বন্দি হয়ে নেই। পাশাপাশি নাচের ক্ষেত্রে বর্তমানে একটা অস্থির সময়ও আমরা পার করছি। শুদ্ধ ও শাস্ত্রীয় নৃত্য থেকে আমরা অনেক দূরে সরে যাচ্ছি। পাশের দেশের সংস্কৃতিকে রপ্ত করার চেষ্টাটা এত বেশি, এমনকি পোশাকের ক্ষেত্রেও— যতটা কম পোশাকে স্টেজে পারফরম্যান্স করা যায়, সেটাই যেন আধুনিকতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু তারা বুঝতে চেষ্টা করছে না যে শিল্পীদেরও একটা সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। সমাজের সঙ্গে যায় না— এমন পারফরম্যান্স করা উচিত নয়। আমার এটা বলার কারণ আমি যখন ’৯৫-তে দেশের বাইরে থেকে কোর্স করে দেশে ফিরলাম, তখন আমার দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটটাকে ভেবেই কোরিওগ্রাফি করেছি। ওখানে ওদের মতো করে ওরা নাচ করে। আমি সেটা দেখেছি জেনেছি, কিন্তু তাই বলে আমার দেশে তো আমি সেটা করতে পারি না। সমাজকে সম্মান জানিয়ে কাজ করতে হবে।

• নাচ নিয়ে দেশের বাইরে

আমি অনেক সৌভাগ্যবান যে, দেশের বাইরে একক প্রোগ্রাম করার সুযোগ আমিই সবচেয়ে বেশি পেয়েছি। অধিকাংশই ভরতনাট্যমের পারফরম্যান্স ছিল। দেশের বাইরে একক পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে সংখ্যায় এ দেশে আমার সমকক্ষ বা আমার চেয়ে বেশি করেছে— এমন কেউ নেই। শুধু জাপানেই আমি একমাসে ২৪টি পারফরম্যান্স করেছি। এখনো নিয়মিত যাওয়া হয়। তবে এখন বেশিরভাগই আমার গ্রুপ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। বিদেশে যাওয়া মানে তো ঘুরতে যাওয়া নয়, সেখানে আমার দেশটাকে রিপ্রেজেন্ট করতে হয়। তাই আমার সবসময় চেষ্টা থাকে যে আমার দেশ আমার সংস্কৃতিটাকে পুরোপুরিভাবে তাদের কাছে সুন্দর ও বোধগম্যভাবে তুলে ধরা। আর সেটা মাথায় রেখেই আমি আমাদের নাচগুলোর কোরিওগ্রাফি করি। হয়তো এটা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য বলেই আমাকে তারা বারবারই বিভিন্ন প্রোগ্রামে ডাকে।

• নৃত্যশিক্ষা দান

আমি নাচ শেখানোটাকে ভীষণভাবেই উপভোগ করি। যার ফলে ঢাকায় থাকাকালীন আমি আমার স্কুলে কখনোই ক্লাস মিস দিই না। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একটু কড়া ভূমিকা রাখি। না পারলে বেশ বকাঝকা দেই। কারণ আমি মনে করি, আমাদের সময় কম। ওদেরও একটা দায়িত্ব থাকে যে কতটা কম সময়ের মধ্যে আমার কাছ থেকে আদায় করে নিতে পারে। প্রচুর সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী আমার আছে, যাদের নাচ শিখিয়ে আমি বেশ আনন্দ পাই। স্টেজে যখন ওরা নাচ করে, গর্বে আমার বুকটা ভরে যায়। আমার কাজ, আমার ভাবনা, আমার সৃষ্টিটাকেই ওরা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। ওদের শিক্ষক বা গুরু হিসেবে এটাই আমার দারুণ একটা প্রাপ্তি।

• বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভরতনাট্যমের ভবিষ্যৎ

শাস্ত্রীয় নাচ মানে কী? যা পূর্বে ছিল, বর্তমানে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের দেশে শাস্ত্রীয় নৃত্যের যে বিভিন্ন ধারাগুলো আমরা চর্চা করি, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চা হয় মূলত চারটি ধারা— ভরতনাট্যম, কত্থক, মনিপুরী ও ওড়িশি। এখন ভরতনাট্যম চর্চা অনেকেই করছে। একটা সময় ছিল অনেকেই এটাকে একমাত্র হিন্দুদের ধর্মীয় নাচ বলেই প্রচার করত। এটা তো সত্যি যে ভারতবর্ষে বা এই উপমহাদেশে যতগুলো নাচের ধারা, তার সবগুলোই হিন্দু ধর্মের মিথ থেকেই এসেছে। কিন্তু বিষয়টিকে আমি এভাবেই দেখি— একটি শিল্পকর্ম শুধুই শিল্পকর্ম। ধর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বা সংযোগ আমার মুখ্য নয়। নিজেকে রাধা বা কৃষ্ণ না ভেবে একজন শিল্পী ভেবেই মঞ্চে নিজেকে সঁপে দিই। অবশ্য এখন মানসিকতার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সবাই এটাকে শুদ্ধ শাস্ত্রীয় নৃত্য বা শুদ্ধ শিল্পচর্চা হিসেবেই গ্রহণ করছে, যা আগামীতে আরো অনেকদূর এগিয়ে যাবে, অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।

• নৃত্য জগতের বাইরে এইচআইভি ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে কাজ

আমি জানি না ঠিক কখন থেকে আমার মধ্যে এ অভ্যাসটা এসেছে। আমি যখন ইন্ডিয়া থেকে ফিরে এলাম তখন থেকেই সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাকে নাড়া দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আবার লুবনা মারিয়ামের কথা বলতেই হয়। তার মায়ের দু’টো স্কুল ছিল— একটা প্রতিবন্ধীদের স্কুল ‘কল্যাণী’, আরেকটা ভাসমান ও সুবিধাবঞ্চিত বাচ্চাদের জন্য ‘দীপশিখা’। এই দু’টি স্কুলেই আমি স্বেচ্ছাশ্রম দিতাম। প্রায় বছর দেড়েক কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই ওখানে কাজ করেছি। ওদের সাথে কাজ করতে গিয়ে আমার মনে হতো, ডান্স থেরাপির ওপর কাজ করলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বাচ্চাদের উপকারে আসবে। আমি সেটা করলাম। সোনারগাঁও হোটেলে একটা অনুষ্ঠানে সেই বাচ্চা গুলোকে দিয়ে পারফরম্যান্স করালাম। বেশ প্রশংসিত হলো।

এরপর আমার এক বিদেশি বন্ধুর প্রস্তাবে কাজ শুরু করলাম এইচআইভি সচেতনতা নিয়ে। বন্ধুর টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে আমরা গঠন করলাম ‘বন্ধু সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’। আমি এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন। আমরা মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করি। প্রায় ২৩ বছর ধরে চলছে আমাদের এই কার্যক্রম। এই কাজ করতে গিয়ে কিছুদিন পরেই মনে হলো আমাদের আরও কাজ করা দরকার। সিদ্ধান্ত নিলাম ‘হিজরা’দের নিয়ে কাজ করব। এখানে বলে রাখি, অনেকে এদের ‘বৃহন্নলা’, আবার অনেকে ‘থার্ড জেন্ডার’ বা ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলে। কিন্তু ওরা নিজেদের ‘হিজরা’ বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এবং ওরা সবসময় এই পরিচয়টাই দেয়। আমরা চেষ্টা করছি মানবাধিকারের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের সব ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করতে। চাকরি, পারিশ্রমিক, সম্পত্তির উত্তরাধিকারসহ সবগুলো অধিকার যেন তারা পায়, কোনোভাবেই যেন বঞ্চিত না হয়— সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর এক্ষেত্রে আমরা বেশ সফলও হচ্ছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চমানের কাজগুলোতেও তারা বেশ দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। এটাই আমাদের পাওয়া।

• চিরতারুণ্যের রহস্য

ফরমালিন (হাসি)। আমি তো আগেই বলেছি, এক জীবনে একটা মানুষ সব কিছু করতে পারে না। যে প্রফেশনটাতে আমি আছি, সেটার প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। দর্শকদের ঠকানো উচিত নয়। তাই চেষ্টা করি সবসময় ফিট থাকতে। ডায়েট মেনে চলি, নিয়মিত জিমে যাই। আমি মনে করি আমার এই ফিটনেসের কারণেই আমি এতদূর আসতে পেরেছি।

• আক্ষেপ

সত্যিই আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আমার এই স্বল্প জীবনের স্বল্প সময়ে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। আমার মতো একটা মানুষের জন্য সেটা অনেক কিছু। তবে দুঃখ হয় তখনই যখন দেখি কিছু মানুষ এই শিল্পকে অন্যখাতে প্রবাহিত করছে। শুদ্ধ নৃত্যটাকে যখন ভেঙেচুরে ছারখার করে দিচ্ছে। বিশেষ করে টিভি চ্যানেলগুলো নৃত্যানুষ্ঠানের নামে নন-ডান্সার নায়িকা ও মডেলদের সামনে রেখে আর নৃত্যশিল্পীদের তাদের পেছনে রেখে নাচ করানোর জন্য আমাকে অনুরোধ করে, সেটা আমি মেনে নিতে পারি না। আগামীতেও এটা পারব না। তাই টিভি চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে আমার বিনীত অনুরোধ, আপনারা যদি নৃত্যানুষ্ঠানই দেখাতে চান, তাহলে যারা সত্যিকার নৃত্যশিল্পী, যারা কষ্ট করে দিনের পর দিন শ্রম দিয়ে নাচটাকে ধারণ করেছে, তাদের সুযোগ দিন। কারণ একজন নৃত্যশিল্পী দিনের পর দিন দিন চর্চা করতে থাকে তার কাজটাকে কত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়, তার স্বপ্ন থাকে দর্শকদের কাছে কাজটাকে উপস্থাপন করার। আর সেখানে যখন একজন অন্য ধারার শিল্পী নাচ না শিখেও পুরো প্রাধান্যটা নিয়ে নেয়, তখন সত্যিকার নৃত্যশিল্পীর জন্য সেটা অসম্ভব বেদনাদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। দয়া করে বিষয়টা একবার ভেবে দেখবেন।

• প্রাপ্তি

আমার মা। উনি যতদিন বেঁচে ছিলেন, যখনই তার সংস্পর্শে থাকতাম, এক স্বর্গীয় অনুভূতি যেন আমাকে ঘিরে থাকত। আর আমার গুরু ‘পদ্মশ্রী লীলা স্যামসন’। গুরুর সাথে আমার অনেক গভীর একটা যোগসূত্র রয়েছে। উনি আমাকে ‘বাবা’ বলে ডাকেন। সবসময় বলেন আমি তার বাংলাদেশি বাবা। আমাকে ছেলের মতো স্নেহ করেন। তার কাছ থেকে আমার এত বেশি প্রাপ্তি, যার বিন্দুমাত্র প্রতিদান দেওয়া আমার পক্ষে এই জীবনে অসম্ভব। তার চেষ্টা আমি করবও না। আমার মধ্যে তার যে স্থানটা আছে, আমি চাই সবসময় তাকে সেভাবেই রাখতে। একজন শিল্পী আসলে সারাজীবন অতৃপ্তই থাকেন। তারপরও প্রাপ্তি তাকে অনেকদূর এগিয়ে নেয়। আমার দু’টো ভালো লাগার প্রাপ্তি আছে, দুটোই জাপানে। জাপানে একটি প্রোগ্রামে পারফরম্যান্স করছি। খেয়াল করলাম, দর্শক আসনের সামনের সারিতে একজন ভদ্রমহিলা কী যেন লিখছেন। প্রোগ্রাম শেষে তিনি এগিয়ে এসে আমার হাতে একটা কাগজ দিলেন, দেখলাম তাতে আমার একটা পোর্ট্রেট। ওই পোর্ট্রেটে আমাকে একটা অটোগ্রাফ দিতে বললেন। আমি যেন ভাষা হারিয়ে ফেললাম। আরেকটা ঘটনা ছিল, জাপানেই এক ফেস্টিভ্যালে আমি একটা রাধার পিস করেছিলাম। বিষয় ছিল কৃষ্ণ অন্য গোপীদের সাথে মজা করছে, আর তা দেখে কৃষ্ণের সাথে তার পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করে ভীষণ কষ্টে ব্যাথায় কাতর হয়ে পড়ছে রাধা। আমি যখন এটা শেষ করে মঞ্চের বাইরে এলাম, তখন দু’জন বৃদ্ধা এসে আমার হাত দুটো চেপে ধরে অঝোর ধারায় কাঁদছেন। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না তারা কেন কাঁদছেন। জানালেন, আমি যে রাধার কষ্টটা স্টেজে ফুটিয়ে তুলেছি, তারা ভেবে নিয়েছেন আমি সত্যিই ভীষণ কষ্টের মধ্যে আছি। তো আমার এই ব্যাপারগুলো টাকা দিয়ে কেনা যায় না। এই পুরস্কার একজন শিল্পীর জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আর দর্শকের ভালোবাসাতেই আমরা শিল্পী।

• নতুন বছর ২০২০

২০২০’র শুরুর দিকেই বেশ কিছু আয়োজন আমাদের হাতে রয়েছে। আমাদের বেশ জনপ্রিয় একটি প্রযোজনা ‘বাঁদি-বান্দার রূপকথা’। জানুয়ারিতেই দর্শনীর বিনিময়ে এটা মঞ্চায়নের সিদ্ধান্ত হচ্ছে। সৃষ্টির ২৫ বছর উপলক্ষে ফেব্রুয়ারিতে একটা ডান্স ফেস্টিভ্যাল করছি। এছাড়াও সিলেটের ‘নৃত্যশৈলী’ ও চট্টগ্রামের ‘ফুলকি’র সাথে ঢাকাতেই যৌথ অনুষ্ঠান করছি। পাশাপাশি ২৬ মার্চ ও ১লা বৈশাখ উপলক্ষে দেশের বাইরে অনুষ্ঠানের কথাবার্তা হচ্ছে।

• স্বপ্ন

প্রথমত আমি পরিকল্পনা করে কিছু করতে পারি না। স্বপ্ন খুব কমই দেখি। কারণ স্বপ্ন দেখলে সফল হবে কি না, জানি না। তবে আমি চেষ্টা করি একজন ভালো ও সৎ মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার। আমি যে শিল্প মাধ্যমে আছি, সেটার সঙ্গে যেন প্রতারণা না করি। কোনো অন্যায় যেন না করি। আসলে এটা তো একটা প্রার্থনার ব্যাপার। এখানে যদি অন্যায় হয়, তাহলে এগুনো সম্ভব নয়। তাই আমি আমার স্টুডেন্টদের সবসময় এটাই বলি— মানুষকে ঠকাবে না। ভালো মানুষ হতে হলে অনেক কিছু পরিত্যাগ করতে হবে। স্বার্থপর হলে হবে না, এটাকে সত্যিকার অর্থেই ত্যাগ করতে হবে। আমি এটা আমার পরবর্তী প্রজন্মকেও বলতে চাই।

সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা।

 

সারাবাংলা/এএসজি/পিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন