বিজ্ঞাপন

স্বামী নেই ৭ বছর, তবু প্রতিবছর আসে ফুল

February 16, 2020 | 5:27 pm

বিচিত্রা ডেস্ক

মৃত্যু— বিশ্ব চরাচরে এর চেয়ে অমোঘ সত্য আর কী আছে। এই মৃত্যুই কি জীবনের শেষ কথা। মৃত্যুতেই কি অবসান সবকিছুর? অনেকের কাছে এর উত্তর হ্যাঁ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি’র বাসিন্দা স্টেসি (৬৩) নিশ্চয় সেটি মানবেন না। কারণ স্বামী রিচ কক্সের সঙ্গে ২৬ বছরের যে সংসার জীবন ছিল স্টেসির, তার অবসান ঘটেছে আরও ৮ বছর আগে। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রিচ কক্স। কিন্তু বছরের একটি দিনে ঠিক ফিরে ফিরে আসেন তিনি। শরীর নিয়ে হয়তো আসতে পারেন না, কিন্তু ভালোবাসার যে স্মৃতি-রঙ, তা না ফেরার দেশে থেকেও ঠিক পাঠিয়ে দেন স্টেসির কাছে ফুল আর চিরকুটের আদলে। খবর সিএনএনের।

বিজ্ঞাপন

জর্জটাউনে থাকতেন কক্স ও স্টেসি দম্পতি। তাদের পরিবারে তিন সন্তান। তবে তাদের সুখের সংসারে নেমে আসে ঝড়। গলার ক্যানসারে আক্রান্ত হন রিচ। রোমান্টিক এই মানুষটি ভাবতে থাকেন মৃত্যুর পর কীভাবে স্ত্রীর কাছে তিনি ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেবেন। তাই একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে তিনি। যাতে তার মৃত্যুর পরও বিশেষ দিনে স্টেসির কাছে উপহার পাঠানো হয়। পুরো বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিলেন সন্তানদের। আর তাই ২০১২ সালে রিচ কক্সের (৫৩) মৃত্যুর পরও আট বছর ধরে ভালোবাসা হিসেবে ফুল ও চিরকুট পেয়ে আসছেন স্টেসি। প্রতিটি চিরকুটেই লেখা থাকে ভিন্ন ভিন্ন কিছু।

২০১৮ সালের বার্তায় লেখা ছিল, স্টেসি যদিও তুমি আমাকে দেখতে পাও না। আমি সবসময় তোমার সঙ্গে আছি। তোমাকে ভালোবাসি। ভালোবাসার রিচ। প্রথমবার এই উপহার পেয়ে বিস্মিত হয়েছিলেন জানিয়ে স্টেসি বলেন, এটি ছিল সত্যিই আবেগের। দুঃখের কিন্তু সেইসঙ্গে সুখের। আমি জানি সে সবসময় আমার সঙ্গে আছে।

বিজ্ঞাপন

তাদের দুজনের সংসার জীবনে, স্বামীকে যত্নবান, ভালোবাসার ও আবেগপ্রবণ মানুষ হিসেবেই চেনেন স্টেসি। যতবারই তিনি ফুল ও বার্তা ডেলিভারি হিসেবে পান তার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে আসে। এই ঘটনা তাদের অবাক করেনি জানিয়ে কক্স ও স্টেসির সন্তানরা জানান, তাদের বাবা এমন পুরুষ, সব নারীরা যেমনটি খুঁজে থাকে।

মেয়ে বেথানি জানান বাবার এই গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা জানতেন। তবে কীভাবে এটা হয়েছে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন। খুব তাড়াতাড়ি বাবার কাছ থেকে আসা এই উপহার বন্ধ হবে বলে মনে হচ্ছে না তাদের।

এদিকে ট্রেসি বলেন, যদি রিচকে তিনি কিছু বলার সুযোগ পেতেন; তাহলে জানাতেন সংসার জীবনে ও এখন, রিচের সব ভালোবাসার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।

সারাবাংলা/এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন