বিজ্ঞাপন

আরও ২৮ হাজার ৮৪৯ জন প্রবাসী দেশে ফিরছেন আগামী কয়েক সপ্তাহে

May 7, 2020 | 12:28 am

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নভেল করোনাভাইরাসের কারণে প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের দেশে ফেরার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দুর্যোগের এই সময়ে প্রতিটি দেশ নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় বিদেশি শ্রমিকদের দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এর ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও প্রায় ২৮ হাজার ৮৪৯ জন প্রবাসী কর্মীর দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৬ মে) এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই সময়ে প্রবাসী কর্মীরা দেশে এলে সবকিছু কিভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে পররাষ্ট্র, বৈদেশিক শ্রম ও প্রবাসীকল্যাণ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নিয়ে পঞ্চমবারের মতো এই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন- বিদেশে কেউ করোনায় মারা গেলে যা হবে, জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এক ভিডিও বার্তায় গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘বৈঠকে কয়েকটি বিষয় জোর দিয়েছি। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে বিভিন্ন ইস্যুতে আলাপ হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের নিয়ে, তারা আমাদের বড় সম্পদ। প্রবাসীদের যেন কোনো ঝামেলা না হয়, তারা যেন কোনো অসুবিধায় না পড়েন, সে বিষয়ে আমরা আলোচন করেছি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরছেন। আমাদের দেশে কোয়ারেনটাইনের কতটুকু ব্যবস্থা আছে, সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনছি। আমাদের সব নাগরিকদের আমরা দেশে ফিরিয়ে আনব, এতে কোনো সন্দেহ নাই।

তিনি বলেন, গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩ হাজার ৬৯৫ জন দেশে ফিরেছেন। মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে ফিরে আসা এই প্রবাসীদের বেশিরভাগই সেখানে দণ্ডিত ছিলেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য সরকার করোনা প্রাদুর্ভাবের পর তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছে এবং তাদেরকেই আগে আগে পাঠাচ্ছে। যারা ওমরা করতে গিয়েছিলেন, এই সময়ে তারাও ফিরে এসেছেন।

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আরও অনেকেই দেশে ফিরবেন। আমাদের ধারণা, আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রায় ২৮ হাজার ৮৪৯ জন প্রবাসী দেশে ফিরতে পারেন। তারা ফেরার পর কোয়ারেনটাইনসহ কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সেগুলো আলোচনা করেছি।

মন্ত্রী জানান, ভারত, জাপান, চীনসহ বিশ্বের যেসব দেশে বাংলাদেশিরা গিয়ে করোনার কারণে আটকে পড়েছেন, তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৫৩ জনকে এরই মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, আরও কিছু আটকে পড়া বাংলাদেশি বিদেশে রয়ে গেছেন। তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া আমেরিকা, ইংল্যান্ডসহ ইউরোপে যারা আটকে পড়েছেন, তাদেরও ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা চলছে।

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘কুয়েতে অনিবন্ধিত সাড়ে ৪ হাজার বাংলাদেশি ওখানকার ক্যাম্পে রয়েছেন। শোনা যাচ্ছে যে ক্যাম্পে ঠিকমতো খাবার দেওয়া হচ্ছে না। আমরা আমাদের মিশনের সঙ্গে আলাপ করেছি। তাদের যেন খাবারের অসুবিধা না হয়, সেই ব্যবস্থা নিতে বলেছি। কুয়েত সরকার যখনই চাইবে, আমরা তাদের দেশে ফিরিয়ে আনব। কুয়েত সরকার এর মধ্যে আমাদের ১৯০ জনের একটি তালিকা পাঠিয়েছে। সেটা আমরা অ্যালাও করেছি। তবে আমরা সবাইকেই ফিরিয়ে আনব।

তিনি বলেন, করোনার কারণে এখন লকডাউনে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় বিদেশে আটকে পড়াদের ফিরিয়ে আনতে সমস্যা হচ্ছে। কুয়েত সরকার বলেছে যে তারা ব্যবস্থা করে পাঠাবে। তারা যদি না করে, আমরাই ব্যবস্থা নেব।

বিজ্ঞাপন

মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তা পাঠানো হয়েছে জানিয়ে আবদুল মোমেন বলেন, মালদ্বীপ থেকে বৃহস্পতিবার আরও ৪০০ জন দেশে ফিরবেন। এর আগে আরও কিছু ফিরেছেন। মালদ্বীপে বাংলাদেশিদের যেন অসুবিধা না হয়, এজন্য আমরা ১০০ টন খাবার পাঠিয়েছি। দেশটির রাষ্ট্রপতি জানিয়ছেন, সেখান থেকে ১৫০০ বাংলাদেশি ফিরবেন। আমরা এদের সবাইকেই গ্রহণ করব।

তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকেও প্রবাসী আসবে। সৌদি আরব থেকেও ফিরবে। তবে এখনো সৌদি সরকার পুরো তালিকা পাঠায়নি। এই মুহূর্তে সৌদি আরবে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে ৪ হাজার ২৬২ জনের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে। তারা ফিরবে। জর্ডান থেকেও আসার সম্ভাবনা আছে। ওমান থেকে ১ হাজারের মতো আসার সম্ভাবনা আছে। লেবাননেও প্রবাসীরা অনেক ঝামেলায় আছে। চেষ্টা করছি আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থা বা অন্য কোনোভাবে তাদেরকে বিনা পয়সায় দেশে আনা যায় কি না।

তিনি আরও বলেন, ‘বড় সংকট হচ্ছে ইরাকে। সেখানে একটি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রবাসীর চাকরি চলে গেছে। তাদের নিয়ে চিন্তায় আছি যে কিভাবে দেশে ফিরিয়ে আনব। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছি।’

সারাবাংলা/জেআইএল/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন