বিজ্ঞাপন

তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সিরিজ বিষয়টি বোঝা এখনো বাকি আছে: শাওন

June 29, 2020 | 7:48 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ওয়েব সিরিজ তো বটেই, ওয়েব সম্পর্কেই তথ্য মন্ত্রণালয়ের তেমন ধারণা নেই বলে মন্তব্য করেছেন গ্রে অ্যাডভার্টাইজিংয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) ও কান্ট্রি হেড সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সম্পর্কে ধারণা আছে। খুব পিছিয়ে থাকা মানুষ তারা। তাদের পড়ালেখা করতে হবে, শিখতে হবে। কারণ ওয়েব ইজ দ্য ফিউচার। তথ্য মন্ত্রণালয় নিজেই যদি ওয়েব সম্পর্কে  না বোঝে, কালকের দিনে তারা কী করে সেটা ম্যানেজ করবে? নলেজ না থাকলে কিভাবে হ্যান্ডেল করবে এটা?’

সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে সারাবাংলা ডটনেটের নিয়মিত আয়োজন সারাবাংলা ফোকাস অনুষ্ঠানে ‘ওয়েব সিরিজে শ্লীলতা ও অশ্লীলতা বিতর্ক’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সারাবাংলা ডটনেটের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট এমএকে জিলানী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে আরও অতিথি হিসেবে ছিলেন টেলিভিশন পোগ্রাম প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও অভিনয় শিল্পী ইরেশ যাকের। অনুষ্ঠানটি একযোগে সারাবাংলার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব এবং বেসরকারি টেলিভিশন জিটিভি থেকে সরাসরি প্রচারিত হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গ্রামীণফোন (জিপি) ও রবি’র প্ল্যাটফর্ম ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ওয়েব সিরিজের নামে সেন্সরবিহীন ‘কুরুচিপূর্ণ’ ভিডিও কনটেন্ট ওয়েবে আপলোড ও প্রচারের বিষয়ে অপারেটর দুইটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন- রুচির প্রশ্নে দায় কি শুধু দেশি প্ল্যাটফর্মের?

আলোচনায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন নির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার সৈয়দ গাউসুল আলম শাওন বলেন, আমার কাছে মনে হয়, তথ্য মন্ত্রণায়ের জন্য এটি খুবই দায়সারা গোছের একটি কাজ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য সবচেয়ে সহজ কাজ দু’টি চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া। কারণ আপনি মিনিস্ট্রি। চিঠিতে প্লিজটা কোথায়? রিকোয়েস্ট কোথায়? আমি জানতে চাই, শুনতে চাই, শিখতে চাই। আমি বুঝি না। আমার মনে হয় না তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সম্পর্কে ধারণা আছে।

দেশীয় ওয়েব প্ল্যাটফর্মগুলো বিদেশি কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে কি না— এমন প্রশ্ন তুলে শাওন বলেন, আমার কাছে মনে আমাদের কালচারাল লাইনে যারা কাজ করেন, মুরব্বি থেকে শুরু করে আজকের যারা, আমরা সবাই কিন্তু একটা কমিউনিটি। আমরা সবাই যদি একসঙ্গে বসি, সবাই একটি সিদ্ধান্ত নিই, তথ্য মন্ত্রণালয় কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্তের মতো করেই এগুবো। তারা তো আমাদের বাইরের কেউ না। কাজেই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে বসতে হবে, কাজ করতে হবে প্রথমত। দ্বিতীয়ত, খেয়াল রাখতে হবে এত কিছুর ভিড়ে কোথাও আমরা কারো ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছি কি না। এই যে হইচই আছে, জি ফাইভ আছে— এরা কিন্তু বাংলাদেশর সিস্টেমে অলরেডি ঢুকে গেছে। এরা কিন্তু আমাদের বিতর্কে খুশি হবে। তাই আমাদের কেয়ারফুল থাকতে হবে, যেন আমাদের কাজ করতে গিয়ে ওদের লাভ না হয়।

শাওন আরও বলেন, ওয়েব ইজ আ মিডিয়া। টেভিশিনও মিডিয়া। টেলিভিশনের একটি নিয়ম তৈরি হয়েছে। নিয়ম মেনে চলে। আমি টেলিভিশনও দেখছি, ওয়েবও দেখছি একই স্ক্রিনে। ওয়েবের পৃথিবীটা শুধু বাংলাদেশে বসে থাকতে পারবে না। এতটা জাজমেন্টাল হতে পারব না। আপনি আপনার সুবিধামতো প্রতিবাদ করছেন, কিন্তু সংস্কৃতি কী থেমে থাকার বিষয়? প্রতিবাদ কিন্তু বয়স্কদের মধ্য থেকেও হয়। কী দেখাব, কী দেখাব না— এ প্রশ্ন থাকতে পারে, অশ্লীলতা নিয়ে কথা থাকতে পারে। ৩৫ কোটি বাঙালি আছে বিশ্বে। ওয়েবের ক্যাপিটাল হতে পারে ঢাকা। ঢাকা থেকে বাংলা ভাষার ওয়েব জগত নিয়ন্ত্রণ হতে পারে। হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হতে পারে। ওয়েবের জগতটা বিশাল, সেখানে ডার্ক ওয়েব আছে। সেখানে গিয়ে কেউ পর্ন দেখলে আমরা কি সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব?

আরও পড়ুন- ওয়েব সিরিজ: জিপি ও রবি’র কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়

তিনি বলেন, ওয়েবের প্ল্যাটফর্ম ড্রয়িং রুমে বসে দেখার বিষয় না। ওয়েব দেখা হয় একটি স্ক্রিনে, একটি স্মার্টফোন বা ল্যাপটপে, যেখানে একজন দেখে। আর টেলিভিশন ড্রয়িং রুমে দেখার বিষয়। এই পার্থক্যটুকু বুঝতে হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পর ওয়েব সিরিজের সব কাজ থমকে আছে জানিয়ে গ্রে অ্যাডভার্টাইজিংয়ের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা চাওয়ার পর ওয়েবের সব কাজ থেমে আছে। আলোচনা, বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু তার জন্য ওয়েব থেমে গেলে চলবে না। ওয়েব নিয়ে আমাদের আরও কাজ করা উচিত। কবে নেটফ্লিক্সে আমাদের একটি কাজ যাবে, কবে আমাদের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে, সেটি নিয়ে ভাবা উচিত। বিঞ্জের সিকিউরিটি সিস্টেমকে আরও ইম্প্রুভ করতে হবে। তাদের কনটেন্ট কিভাবে ইউটিউবে প্রকাশ পায়? ইউটিউবের সঙ্গে তাদের এমন আলোচনাও থাকা উচিত।

গত ২৫ জুন তথ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, জিপি ও রবির প্ল্যাটফর্ম (বায়োস্কোপ ও বিঞ্জ) ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ওয়েব সিরিজের নামে সেন্সরবিহীন নগ্ন, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য, কাহিনী ও সংলাপ সংবলিত ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করা হয়েছে।

গাউসুল আলম শাওনের মতো দেশীয় প্ল্যাটফর্মের উদ্যোক্তা ও নির্মাতারা বলছেন, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন, হইচই, হটস্টার, উলু বা জি ফাইভের মতো ওয়েব কনটেন্টের বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলোতেও একই ধরনের কনটেন্ট প্রচারিত হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কেবল দেশীয় প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে তারা দেখছেন বৈষম্য হিসেবে। এসব বিষয় নিয়েই সারাবাংলা ফোকাসে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন