বিজ্ঞাপন

বন্যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ

July 9, 2020 | 12:58 am

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: যেকোনো বন্যা বা দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হলে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। আর সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। ফলে সবগুলো মন্ত্রণালয় যদি নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করে, তাহলে সবকিছুই মোকাবিলা করা সহজ হবে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সারাবাংলা’র বিশেষ আয়োজন ‘সারাবাংলা ফোকাস’ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। এদিনের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ‘কোন দিকে বন্যা পরিস্থিতি?’

আলোচনায় অতিথি ছিলেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. আবু সাইয়দি ও প্রকৌশলী ম ইনামুল হক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সারাবাংলা ডটনেটের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট এমএকে জিলানী।

বিজ্ঞাপন

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, আমরা এখন একটি দুর্যোগময় সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। জুলাই-আগস্টে স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশে বন্যা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার আমাদের দেশে বন্যা জুন থেকে শুরু হয়েছে। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে এরই মধ্যে একধাপ আঘাত হেনেছে বন্যা। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। বর্তমানে পাঁচটি নদীর ছয়টি স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে আছে। বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ি, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে বন্যা চলছে। কিন্তু দুয়েকদিনের মধ্যে আবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে, যা আমাদের জন্য ভাবনার বিষয়। আর এই বৃষ্টিপাত জুন মাসের চেয়ে বেশি বলে মনে হচ্ছে। ভাবনার বিষয় হচ্ছে, প্রথম ধাক্কার বন্যা যেতে না যেতে আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আর একটি বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের ১২ জুলাই উত্তরবঙ্গে বন্যা হয়েছিল। তাই জুলাইয়ের বন্যা স্বাভাবিক। বৃষ্টির কারণে এবার বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘতর হতে পারে। চারদিক থেকে ভারতের নদীগুলো আমাদের ঘিরে রেখেছে। বন্যা প্রতিরোধ সম্ভব নয়। তবে আমাদের পূর্বাভাস ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। তাই বন্যার আগে যদি আমাদের তৎপরতা একটু বাড়াতে পারি, তাহলে আমাদের ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারব। জুন মাসের বন্যায় আমরা একমাস আগে আভাস পেয়েছিলাম এবং পূর্বাভাস দিয়েছিলাম। ফলে জাতীয় পর্যায়সহ আমাদের পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছিলাম। ফলে আমাদের পূর্বাভাস পেয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অবকাঠামোগুলো রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসনও ত্রাণ মজুদ রেখেছে, যেন কোনো সমস্যা না হয়।

বিজ্ঞাপন

সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ বলেন, আবহমানকাল ধরে এই বন্যা চলে আসছে। বন্যার কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বন্যার সঙ্গেই আমাদের বসবাস। বন্যার সঙ্গে বাস্তবসম্মত ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মসূচি বা পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। রংপুর ও গাইবান্ধা এলাকায় প্রায় ৬০ লাখ মানুষ চরাঞ্চলে বসবাস করে। আর সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনাতে ১০ লাখ মানুষের বসবাস চরাঞ্চলে। আমার এলাকাতে ৩০ হাজার মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা আশ্রয়কেন্দ্র যেগুলোর অবস্থা ভালো নয়। উত্তরবঙ্গ অর্থনৈতিক, শিল্প, রাজনৈতিক ও ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের মধ্যে রয়েছে। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রগুলো যেখানে হওয়া দরকার, সেখানে না হয়ে যেসব বিত্তশালী অঞ্চলে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৮ সালের বন্যা ৩৩ দিন স্থায়ী হয়েছিল। কিন্তু এবারের বন্যা যেহেতু আগে এসেছে, ফলে দীর্ঘ সময় থাকতে পারে। তাতে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। সেটার জন্য আমাদের কতটুকু প্রস্তুতি আছে, আমি জানি না। ত্রাণমন্ত্রী বলেছেন, খাদ্যের ট্রাক চলে যাবে। কিন্তু চরাঞ্চলে ট্রাক যেতে পারবে না। কিভাবে চরাঞ্চলে খাবার যাবে, সেটা আমাদের কারও জানা নেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো— বন্যা মোকাবিলায় দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। বন্যা শুধু বন্যা নয়, এর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কিত। খাবার, পানি, কর্মসংস্থান, আশ্রয়ের মতো বিষয়গুলো যুক্ত। সেজন্য সবগুলো মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় দরকার।

বিজ্ঞাপন

প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, এবারের বন্যা বড় ধরনের বন্যা হবে বলে আমি মনে করছি না। তবে এবারে বন্যা একটু আগেভাগে এসেছে। আসামে বৃষ্টি হওয়ায় উত্তরবঙ্গে বন্যা হয়েছে। তবে সেটি বড় ধরনের নয়। আম্পানে বাঁধ ভেঙে মানুষ দুবির্ষসহ জীবনযাপন করছে। উত্তরবঙ্গে কিন্তু বন্যার বাঁধ ভাঙেনি। চরগুলোতে যারা বসবাস করেন তারা বন্যার সঙ্গেই বসবাস করেন। আমাদের ৫ শতাংশ বা প্রায় এক কোটি মানুষ চরাঞ্চলের বাসিন্দা। প্রতিটি জেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বয় কমিটি আছে মন্ত্রণালয়ের। সমস্যা হলো বন্যা নিয়ন্ত্রণে তড়িৎ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। সেখানে স্বজনপ্রীতি বা দুর্নীতির অভিযোগ আসে। এছাড়া ক্ষমতায় রাজনৈতিক থাকায় ত্রাণ বিতরণগুলো রাজনৈতিকভাবে যায়। রাজনৈতিকভাবে সেগুলো আত্মসাৎ হয়— এগুলো বাস্তবিক সমস্যা।

তিনি আরও বলেন, সরকারের গুদাম ভর্তি খাবার আছে। তাই আমি বলব, যে বন্যায় আসুক মাঝারি বা বড়, যারা সরকারি আমলা বা রাজনৈতিককর্মী আছেন, তারা সমন্বিতভাবে সাহসিকতার মাধ্যমে সেটা মোকাবেলা করবেন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন