বিজ্ঞাপন

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদের বাবা মারা গেলেন করোনায়

July 10, 2020 | 12:58 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের বাবা সিরাজুল করিম করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (সাবেক আয়েশা মেমোরিয়াল) মৃত্যু হয় তার। হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী সারাবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সিরাজুল করিমকে। ছেলে মো. সাহেদ নিজেই তাকে ভর্তি করান এই হাসপাতালে। নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিলতার কারণে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। হাসপাতালে ভর্তির পর নমুনা পরীক্ষায় সিরাজুল করিমের কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালে সেবা নেই জানিয়ে মো. সাহেদ তার বাবাকে আমাদের এখানে ভর্তি করান। পরের দুই দিনও তিনি ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছেন। তারপর আর তার ফোন খোলা পাওয়া যায়নি।

ডা. আশীষ বলেন, মো. সাহেদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় সিরাজুল করিমের লাশ হস্তান্তর করতে পারছিলাম না। থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলাম। পরে সাহেদের স্ত্রীর কর্মস্থলের তথ্য পেয়ে তার এক সহকর্মীর মাধ্যমে খবর দেওয়া হয়। পরে তাদের একজন আত্মীয় এসে লাশ নিয়ে গেছেন।

এর আগে, করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ উঠতে থাকে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে। সারাবাংলার অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের দুই শাখার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এসব অভিযোগে গত সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালটিতে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসময় আটক করা হয় আট জনকে।

পরে হাসপাতালটির চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ১৭ জনের নামে মামলা করা হয়। চেয়ারম্যান সাহেদসহ বাকি ৯ জন আসামি এখনো পলাতক। র‌্যাবের অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৭ ‍জুলাই) রিজেন্ট হাসপাতালের দু’টি শাখাই বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। মার্চে হাসপাতালটি কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করলেও হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে সে চুক্তিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

সারাবাংলা/এসবি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন