বিজ্ঞাপন

ওয়েব সিরিজ বিতর্ক: গ্রামীণফোন ও রবির ব্যাখ্যা ‘পরীক্ষাধীন’

July 26, 2020 | 8:30 am

এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গ্রামীণফোন (জিপি) ও রবি’র প্ল্যাটফর্ম ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ওয়েব সিরিজের নামে সেন্সরবিহীন ‘কুরুচিপূর্ণ’ ভিডিও কনটেন্ট ওয়েবে আপলোড ও প্রচারের অভিযোগ এনেছিল তথ্য মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে মোবাইল অপারেটর দুইটির কাছে ব্যাখ্যাও তলব করা হয়। সে ব্যাখ্যা দিয়ে তথ্য অধিদফতরে (পিআইডি) পাঠানো চিঠিতে তারা নিজেদের নিদোর্ষ দাবি করেছে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রণালয় বলছে, অপারেটর দু’টি যে চিঠি পাঠিয়েছে, তা পরীক্ষাধীন। চিঠির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সারাবাংলার সঙ্গে কথা হয় পিআইডির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, চিঠিতে গ্রামীণফোন সরাসরি তাদের অপরাধ অস্বীকার করেছে। রবি সরাসারি অস্বাকীর না করলেও তারা এর জন্যে দায়ী নয় বলে দাবি করেছে। কেউ তো আর সরাসরি তাদের অপরাধ স্বীকার করে না। আমাদের কাছে চিঠি পাঠানোর পর আমরা তা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। অপারেটর দু’টির চিঠি এখন মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষাধীন আছে। তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, সারাবাংলাকে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার জানিয়েছিলেন, গ্রামীণফোন জানিয়েছে এসব কনটেন্টের জন্য তারা কোনোভাবেই দায়ী নয়। কনটেন্টের জন্য নির্মাতারা দায়ী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রবিও প্রায় অভিন্ন উত্তর দিয়েছে। তাদের প্ল্যাটফর্ম বিঞ্জ অন্য একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

সূত্র বলছে, গ্রামীণফোনের প্ল্যাটফর্ম বায়োস্কোপে কনটেন্ট আপলোডের দায়িত্ব বঙ্গবিডির। চিঠিতে গ্রামীণফোন তা উল্লেখ করেছে। গ্রামীণফোনের দাবি, কনটেন্ট প্রকাশ নিয়ে তাদের নিজস্ব একটি নীতিমালাও রয়েছে। ১৭ পৃষ্ঠার ওই নীতিমালাটি তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে সংযুক্ত করেছে তারা। আর এসব বিষয় এখন তথ্য মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় রয়েছে।

আলোচনা-পর্যালোচনা চললেও গ্রামীণফোন ও রবির ব্যাখ্যায় তথ্য অধিদফতর ও তথ্য মন্ত্রণালয় সন্তুষ্ট নয় বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তথ্য অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার সারাবাংলাকে বলেন, ‘কেউ তো আর নিজের দোষ স্বীকার করে না। অপরাধী তো নিজেকে অপরাধী বলবে না।’

ব্যাখ্যায় যে সন্তুষ্ট নন— তা তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ভাষ্যেও উঠে এসেছে। গত ৫ জুলাই সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওয়েব সিরিজ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক ভিডিও কনফারেন্সের শুরুতে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গ্রামীণফোন যে উত্তর দিয়েছে, সেখানে ঠিকভাবে ব্যাখ্যা নেই।’

সেদিন ওই বৈঠকে কনটেন্ট ও বিজ্ঞাপন প্রচারসহ সামগ্রিক বিষয়টিকে যুগোপযোগী নিয়ম-নীতি ও করের আওতায় আনার লক্ষ্যে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে (সম্প্রচার) আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিটিআরসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন করে প্রতিনিধি এবং একজন আইন বিশেষজ্ঞকে রাখা হয়েছে।

জানতে চাইলে কমিটির অহ্বায়ক তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) মিজান উল আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বৈঠক করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে দুইটি মিটিং হয়েছে। সামনে আরও মিটিং আছে। গ্রামীণফোন ও রবির চিঠির বিষয়টি পিআইডি দেখছে। আমরাও তাতে চোখ বুলিয়েছি।’

এর আগে, গ্রামীণফোন (জিপি) ও রবি’র প্ল্যাটফর্ম ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ওয়েব সিরিজের নামে সেন্সরবিহীন ‘কুরুচিপূর্ণ’ ভিডিও কনটেন্ট ওয়েবে আপলোড ও প্রচারের বিষয়ে টেলিকম অপারেটর দুইটির কাছে ব্যাখ্যা চায় তথ্য মন্ত্রণালয়। গেল ২৪ জুন তথ্য অধিদফতর থেকে কোম্পানি দুটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আলাদা আলাদা চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, অপারেটর দুটির প্ল্যাটফর্ম (বায়োস্কোপ ও বিঞ্জ) ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ওয়েব সিরিজের নামে সেন্সরবিহীন নগ্ন, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য, কাহিনি ও সংলাপ সংবলিত ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করা হয়েছে।

তবে দেশীয় প্ল্যাটফর্মের উদ্যোক্তা ও নির্মাতারা বলছেন, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন, হইচই, হটস্টার, উলু বা জি ফাইভের মতো ওয়েব কনটেন্টের বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলোতেও একই ধরনের কনটেন্ট প্রচারিত হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কেবল দেশীয় প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে তারা দেখছেন বৈষম্য হিসেবে।

উদ্যোক্তারা আরও বলছেন, বিজ্ঞাপন, নাটক ও চলচ্চিত্রের জন্য ওয়েব কনটেন্টই ভবিষ্যৎ। এই প্ল্যাটফর্মেই তৈরি হতে পারে হাজার কোটি টাকার বাজার। আর কোনো কনটেন্টের জন্যে সমালোচনা হতে পারে, তবে তার জন্যে ব্যাখ্যা চাওয়া সমীচীন নয়। একইসঙ্গে রুচির প্রশ্নে কেবল দেশীয় প্ল্যাটফর্মেরই দায় রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নও তাদের।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন