বিজ্ঞাপন

বছরে কোটিপতি আমানতকারী বাড়ছে ৬ হাজার

September 24, 2020 | 6:39 pm

গোলাম সামদানী স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: চলতি বছরের ৩০ শে জুন পর্যন্ত সময়ে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজার ৩৮ জন।অন্যদিকে ২০০৮ সালের ৩১ শে ডিসেম্ভর পর্যন্ত দেশে কোটিপতি আমনতকারীর সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ১৬৩ জন। সর্বশেষ সাড়ে ১১ বছরে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৮৭৫ জন। প্রতিবছর গড়ে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ৫ হাজার ৭৬৫ জন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর মধ্যে সর্বশেষ তিন মাসে অর্থ্যাৎ চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে কোটিপতি বেড়েছে ৩ হাজার ৪১৩ জন। ব্যাংকে টাকা জমা রেখেছেন এমন ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। তবে ব্যাংকে আমানত রাখেন না, দেশে এমন কোটিপতির সংখ্যা কত? তার কোনো পরিসংখ্যান নেই।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘মানুষের আয় বাড়ছে, রেমিট্যান্স বাড়ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বাড়ছে। ফলে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যাও বাড়ছে।’

করোনাকালে মানুষের আয় কমলেও গত মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে গত মে, জুন ও জুলাই মাসে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। ফলে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যাও বেড়েছে।’

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘এই অর্থটা পাচার না হয়ে ব্যাংকে জমা হচ্ছে এটা খুবই আশাব্যাঞ্জক। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, কোটিপতি আমানতকারী বাড়ার মাধ্যমে দেশে আয়ের বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা দিনদিন বাড়ছে বলেই মনে হচ্ছে।’

মির্জা আজিজ বলেন, ‘কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বাড়াটা যেমন ইতিবাচক তেমনি আয়ের বৈষম্য বেড়ে যাওয়াটা একটা নেতিবাচক। আবার করোনার সময়েও দেশে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে তাতে বোঝা যায় এই সময়েও একটি শ্রেণির আয় বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাড়ে ১১ বছরে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা

২০০৮ সালের ৩১ শে ডিসেম্ভর পর্যন্ত দেশে কোটিপতি আমনতকারীর সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ১৬৩ জন। পাঁচ বছর পর ২০১৩ সালের ডিসেম্ভর শেষে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৯ হাজর ৬৪০ জন। ২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ বছরে দেশে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ৩০ হাজার ৪৭৭ জন। এই সময়ে গড়ে প্রতিবছর কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ৬ হাজার ৯৫ জন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা চিল ৭৫ হাজার ৫৬৩ জন।২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্ভর পর্যন্ত পাঁচ বছরে কোটিপতি বেড়েছে ২৫ হাজার ৯২৩ জন।এই পাঁচ বছরে গড়ে কোটিপতি বেড়েছে ৫ হাজার ১৮৪ জন।

অন্যদিকে ২০১৯ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর শেষে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৮৩ হাজার ৮৩৯ জন। চলতি বছরের ৩০ শে জুন কোটিপতি আমানকারীর সংখ্যা ডিসেম্বরের তুলনায় কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৮২ সহাজার ৬২৫ জন হয়। তবে মার্চ থেকে চলতি বছরের ৩০শে পর্যন্ত সময়ে কোটিপতি আমানকারীর সংখ্যা ৩ হাজার ৪১৩ জন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজার ৩৮ জন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে গত জুন পর্যন্ত সময়ে অর্থ্যাৎ গত দেড় বছরে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ১০ হাজার ৪৭৫ জন।

১১ বছরে কোটিপতিদের আমানতের পরিমাণ

২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে কোটিপতি আমনতকারীর আমানতের পরিমাণ ছিল ৭৭ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকে কোটিপতিদের আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। গত ১১ বছরে দেশে কোটিপতি আমানতের পরিমাণ বেড়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা।

এদিকে ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সালের ডিসেম্ভরে কোটিপতি আমানতকারীর আমানতের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায়, ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা। এই পাঁচ বছরে কোটিপতিদের আমানতের পরিমাণ বাড়ে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০১৮ সালের ডিসেম্ভর শেষে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর অর্থের পরিমাণ বেড়ে হয় ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। আর ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকে কোটিপতিদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি ছিলেন মাত্র পাঁচজন। ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বরে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৭ জন। ১৯৮০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৮ জন। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৯৪৩ জন। ১৯৯৬ সালের জুনে কোটিপতি ছিলেন ২ হাজার ৫৯৪ জন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ১৬২ জনে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৮৮৭ জনে। ২০০৮ সালে ১৯ হাজার ১৬৩ জন। সর্বশেষ চলতি ২০২০ সালের ৩০ পর্যন্ত সময়ে কোটিপতি আমানকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজার ৩৮ জন।

সারাবাংলা/জিএস/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন