বিজ্ঞাপন

হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা, বিপাকে চবি শিক্ষার্থীরা

January 7, 2021 | 12:18 pm

চলন্ত চাকমা, চবি করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তার রোধে গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ আছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর আবাসিক হল বন্ধ রেখেই স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

হল ও শিক্ষার্থীদের একমাত্র বাহন শাটল ট্রেন বন্ধ থাকায় বিভিন্ন বিভাগের অসমাপ্ত ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাই পরীক্ষা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খুলে দেওয়াসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে আছে, শুধু পরীক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খুলে দেওয়া, শাটল ট্রেন চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিউ মার্কেট টু জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বাস সার্ভিস চালু করা, মেসভাড়া সংকট নিরসনে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ও শাটল ট্রেন বন্ধ রয়েছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর অসমাপ্ত পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বাড়ি ছেড়ে শহরে ও ক্যাম্পাসের আশেপাশে কটেজগুলোতে অবস্থান করছেন। করোনা মহামারির এই সময়ে নানান ধরনের পরিস্থিতি ও অসুবিধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। অনেকের পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হলেও হল খুলে দেওয়া হচ্ছে না।

ফলে আবাসন সমস্যা ও আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যাতায়াতের জন্য বর্তমানে কোনো ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদের জন্য যে বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা ছিল সেটিও এখন বন্ধ আছে। লোকাল বাসে করে প্রায় সময় বাসের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয়। এ নিয়ে কিছুদিন আগেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। মেসভাড়া সংকট নিরসন সংক্রান্ত দাবি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়নেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট চার দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, ৩১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অতিরিক্ত ভাড়া না দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নং গেট এলাকায় বাস স্টাফ কর্তৃক দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে সরে যান তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ৫ টাকা ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতি। একইসঙ্গে চবির দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় দুঃখও প্রকাশ করেছে বাস মালিক সমিতি। তবে এই ভাড়া কমানো নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। ভাড়া কমানোর কথা হলেও বাস স্টাফরা ঠিকই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে বলে জানা যায়।

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র দেওয়ান তাহমীদ বলেন, ‘আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে চার দফা দাবি তুলেছি। প্রক্টর স্যারের কাছে আজ স্মারকলিপি জমা দেব। পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে থাকতে হচ্ছে এবং নিয়মিত যাতায়াত করতে হচ্ছে। সেকারণে আমাদের আবাসন সমস্যা ও আর্থিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খুলে দেওয়াসহ চার দফা দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতা থাকলে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’

পালি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র নরেশ চাকমা বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকটি বিভাগের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সে কারণে পরীক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে থাকতে হচ্ছে। আবার অনেকের পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হলেও হল খুলে দেওয়া হচ্ছে না। তাই পরীক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খুলে দেওয়া সম্ভব।’

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে হল খুলে দেওয়া সরকারিভাবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও পদক্ষেপ নেয়নি। অফিসিয়ালি হল খুলতে গেলে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে পারে না। যেহেতু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শহর থেকে অনেক দূরে শহর থেকে এসে যদি একজন সংক্রমিত হয়, তখন পুরো হলটা আমাদের লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে পরীক্ষা চালু করেছি। কিন্তু হল খুলে দেওয়াটা অনেক কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের বাস সার্ভিসের একটা অফার এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্বরণ চত্বর (জিরো পয়েন্ট) থেকে সরাসরি নিউ মার্কেট পর্যন্ত ছেড়ে যাবে। উনারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন। এটা যদি করতে পারি তখন শিক্ষার্থীদের ১ নাম্বার গিয়ে গাড়িতে উঠতে হবে না। এটা আমরা বিবেচনা নিচ্ছি, অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য চেষ্টাও করছি। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এতগুলো শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সার্ভিস চালু করা সম্ভব কি-না আলোচনা করতে হবে।’

সারাবাংলা/সিসি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন